


ওয়াশিংটন: গত সপ্তাহে আমেরিকার সর্বাধুনিক ও বিশালাকৃতির বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড-এ আগুন লেগেছিল। সেই আগুন টানা ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে জ্বলেছে। ধোঁয়ার কারণে রণতরীর বেশ কয়েকজন নৌসেনা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে নিউ ইয়র্ক টাইমস সূত্রে খবর।
রণতরীর কয়েকজন নাবিক ও সামরিক কর্তা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে রণতরীটির কাপড় ধোয়ার জায়গায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে। জানা গিয়েছে, ড্রায়ারের একাংশে আগুন ধরে যায়। সেখান থেকে ভেন্টিলেশন পাইপের মধ্যে দিয়ে জাহাজের অন্য অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে মার্কিন নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এই অগ্নিকাণ্ড কোনো যুদ্ধকালীন হামলার কারণে ঘটেনি বলেও জানানো হয়েছে। ওই ঘটনায় দুই নাবিক সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সংঘাত জারি রয়েছে। এর মধ্যে লোহিত সাগরে মোতায়েন করা ১ লক্ষ টন ওজনের এই রণতরীতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সামরিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়নি বলে দাবি করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। যদিও এই ঘটনায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের এই রণতরীতে থাকা প্রায় ৪ হাজার ৫০০ জন ক্রু ও সেনা রীতিমতো অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে রয়েছেন বলে খবর। নিউ ইয়র্ক টাইমস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের ফলে অন্তত ৬০০ জন নাবিক নিজেদের থাকার নির্দিষ্ট জায়গা হারিয়েছেন। তাঁদের এখন রণতরীর টেবিলে বা মেঝেতে ঘুমোতে হচ্ছে। এছাড়া লন্ড্রি পুড়ে যাওয়ায় অনেকেই জামাকাপড়ও ধুতে পারছেন না।
শুধু অগ্নিকাণ্ড নয়, গত ১০ মাস ধরে মোতায়েন থাকা এই রণতরীতে শৌচাগার সমস্যাও প্রকট হয়ে উঠেছে। গত জুন মাসে ভার্জিনিয়ার নরফোক বন্দর ছাড়ার পর থেকে রণতরীটি আটলান্টিক, ভূমধ্যসাগর ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চল হয়ে বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় রয়েছে। সংবাদমাধ্যমে আরও বলা হয়েছে, যদি এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই যুদ্ধজাহাজটি মোতায়েন করে রাখা হয়, তবে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন রণতরী এত দীর্ঘ সময়ের জন্য মোতায়েন করে রাখা হচ্ছে।