নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: নতুন বছরের শুরুতেই ট্রেনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ভোগান্তির শিকার হতে হল নিত্যযাত্রীদের। রবিবার রাতে হাওড়া-কাটোয়া শাখার একটি ট্রেন প্যান্টোগ্রাফের ত্রুটির কারণে বাঁশবেড়িয়ার দু’নম্বর রেলগেটের কাছে দাঁড়িয়ে পড়ে। রাত সাতটা নাগাদ ওই ঘটনার জেরে রাত ৯টা পর্যন্ত কাটোয়ামুখী ওই লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিতে হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পরে ট্রেন যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।
এই ঘটনায় হাওড়া-কাটোয়ার ওই ট্রেনটির যাত্রীরা তো বটেই, কাটোয়ার পরবর্তী ট্রেনের যাত্রীদেরও তীব্র ভোগান্তি হয়েছে। ২০২৫ সালজুড়ে বারবার প্যান্টোগ্রাফ ভেঙে যাওয়া বা ট্রেনের চাকা থেকে আগুন বের হওয়ার জেরে যাত্রী ভোগান্তি হয়েছে। হাওড়া-ব্যান্ডেল থেকে হাওড়া-বর্ধমান, সমস্ত শাখাতেই দুর্ভোগ হয়েছে যাত্রীদের। নতুন বছরেও যে সমস্যা মেটেনি, রবিবারের দুর্ভোগ তারই সাক্ষী দিয়ে গেল।
ট্রেনে যান্ত্রিক বিভ্রাট ও যাত্রী দুর্ভোগ নিয়ে রেলকর্তারা সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে ব্যান্ডেল স্টেশনের এক কর্তা বলেন, প্যান্টোগ্রাফে ত্রুটি টের পেয়ে চালক ট্রেন থামিয়ে দিয়েছিলেন। যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্যই ওই পদক্ষেপ করা হয়েছে। দ্রুত ত্রুটি সারিয়ে ট্রেন চালুর যথাসম্ভব চেষ্টা করা হয়েছে। বাঁশবেড়িয়া স্টেশনের ২ নম্বর রেলগেটের কাছেই বাড়ি পরিমল হালদারের। তিনি বলেন, আমরা দেখি যে, বহু দূর থেকে ট্রেনটি আসছে আর প্যান্টোগ্রাফের তার থেকে আগুন বের হচ্ছে। অনেকটা দূরত্ব অতিক্রম করে চালক কোনওমতে ট্রেনটি থামাতে সক্ষম হন। রেলযাত্রীরাও অনেকে চেন টেনে ট্রেন থামানোর চেষ্টা করেন।
রেলসূত্রে জানা গিয়েছে, প্যান্টোগ্রাফের তারের বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। ব্যান্ডেলের পর থেকেই ওই সমস্যার মুখোমুখি হন চালক। আগুনের ফুলকি বাড়তে থাকায় তিনি ট্রেন থামিয়ে দিতে বাধ্য হন। এদিকে, ট্রেন থামানোর পরে যাত্রীরা তীব্র বিক্ষোভ দেখান চালককে ঘিরে। যদিও অপ্রীতিকর কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। স্থানীয়রাই অটো-টোটো ডেকে যাত্রীদের ব্যান্ডেল স্টেশনে পৌঁছনোর ব্যবস্থা করেন। তারপরেও দীর্ঘসময় ওই লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।