Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সল্টলেকের হাসপাতালে আগুন, ৫০ জন রোগী স্থানান্তরিত

হাসপাতালের দোতলায় সকালে পরপর অপারেশন চলছিল। সেই সময় হাসপাতালের ক্যাথ-ল্যাবে ভয়াবহ আগুন। গোটা হাসপাতাল ঢেকে যায় কালো ধোঁয়ায়।

সল্টলেকের হাসপাতালে আগুন, ৫০ জন রোগী স্থানান্তরিত
  • ২২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাসপাতালের দোতলায় সকালে পরপর অপারেশন চলছিল। সেই সময় হাসপাতালের ক্যাথ-ল্যাবে ভয়াবহ আগুন। গোটা হাসপাতাল ঢেকে যায় কালো ধোঁয়ায়। আতঙ্ক ছড়ায় রোগী, ডাক্তার, হাসপাতালের কর্মী থেকে রোগীর পরিবারদের মধ্যে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা নাগাদ চাঞ্চল্যকর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে সল্টলেকের আনন্দলোক হাসপাতালে। যদিও হতাহতের কোনো খবর নেই। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ৫০ জন রোগীকে দ্রুত উদ্ধার করে কাছেই আনন্দলোক গ্রুপের আরেকটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে দমকল। ঘণ্টা দেড়েকের চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনে তারা। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দমকলমন্ত্রী তথা বিধাননগরের তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসু।

Advertisement

সল্টলেক করুণাময়ীর কাছেই আনন্দলোক হাসপাতালের আটতলা বিল্ডিং। হাসপাতালের এক নার্স বলেন, ‘সকাল ৯টা নাগাদ দোতলায় অনেকগুলি অপারেশন চলছিল। ওটির পাশেই ক্যাথ-ল্যাব। সেখানেই প্রথম আগুন লাগে। ধোঁয়ায় কিছু দেখা যাচ্ছিল না। একটি এসি মেশিন থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিল বলে মনে হয়। আগুন দেখে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।’ অগ্নিকাণ্ডের খবর একতলায় পৌঁছাতেই আতঙ্ক ভয়াবহ আকার নেয়। আউটডোর বন্ধ করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেখানে থাকা সব রোগী ও তাঁদের আত্মীয়দের হাসপাতালের বাইরে বের করে দেওয়া হয়। খবর যায় দমকলে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে আসে দমকলের দু’টি ইঞ্জিন। কিন্তু, আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় পরে আরও একটি ইঞ্জিন নিয়ে আসা হয়। আগুন নেভানোর কাজ যখন চলছে, তারমধ্যেই দোতলা থেকে রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তরের কাজ শুরু করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আনন্দলোকের সেক্রেটারি সংযুক্তা ঝাঁঝাড়িয়া বলেন, ‘ক্যাথ-ল্যাবের একটি অংশে আগুন লাগে। সেখানেই আগুনকে আটকানো সম্ভব হয়েছে। পাশেই অপারেশন থিয়েটার। সেখানে আগুন ছড়ায়নি। তবে ক্যাথ-ল্যাবের বেশ কয়েকটি মেশিন আগুনে পুড়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। হাসপাতালে ভরতি রোগীরা সকলেই সুরক্ষিত। তবে খবর দেওয়ার অনেকক্ষণ পর দমকল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।’ এই দাবি উড়িয়ে  বিধাননগরের ফায়ার স্টেশন মাস্টার অভীক দাস বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অন-রেকর্ড বলছে দমকল নাকি ৪০-৪৫ মিনিট দেরিতে এসেছে। একথা সত্যি নয়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখা হোক।’ এই ইস্যুতে প্রকাশ্যেই বাকবিতণ্ডায় জড়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও দমকল। পরে এই বাকবিতণ্ডা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণে আসে।

সম্পর্কিত সংবাদ