Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

হুঁশ নেই অর্থমন্ত্রী নির্মলার, আফগানির তুলনাতেও ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে টাকা

২০১৩ সালে যখন এক ডলারের বিনিময় মূল্য ৬২ টাকা হয়ে গিয়েছিল, তখন বিজেপি মুখপাত্র নির্মলা সীতারামন বলেছিলেন, অর্থনীতি ক্রমেই খাদের কিনারায় যাচ্ছে। টাকার পতন গভীর উদ্বেগের বিষয়।

হুঁশ নেই অর্থমন্ত্রী নির্মলার, আফগানির তুলনাতেও ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে টাকা
  • ১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: ২০১৩ সালে যখন এক ডলারের বিনিময় মূল্য ৬২ টাকা হয়ে গিয়েছিল, তখন বিজেপি মুখপাত্র নির্মলা সীতারামন বলেছিলেন, অর্থনীতি ক্রমেই খাদের কিনারায় যাচ্ছে। টাকার পতন গভীর উদ্বেগের বিষয়। ২০২৬ সালে এক ডলারের মূল্য ৯৪ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। যে কোনও সময় তা সেঞ্চুরি করবে। অথচ দেশের অর্থমন্ত্রী বলছেন, টাকা একেবারেই স্বাভাবিক আচরণ করছে। কোনও সমস্যা ঩নেই। অর্থমন্ত্রীর নাম নির্মলা সীতারামন। সোমবার সংসদে অর্থমন্ত্রীর এই মন্তব্যে বিস্মিত রাজনৈতিক মহল। ডলারের সঙ্গে যুদ্ধে টাকা যে দুর্বল হচ্ছে এই চেনা তথ্যের আড়ালেও আরও কালো মেঘ উঁকি দিচ্ছে। জানা গিয়েছে, মোদি সরকারের আমলে টাকার পারফরম্যান্স এতটাই খারাপ যে, তালিবানি শাসনের আফগানিস্তানের সরকারি মুদ্রাও টাকার তুলনায় শক্তিশালী হয়ে চলেছে। ডিসেম্বর মাসে ১ আফগানির মূল্য ছিল ১ টাকা ৩৩ পয়সা। আর মার্চে তা দেড় টাকায় পৌঁছেছে। এসবের থেকেও ভারতের জন্য সতর্কবার্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যজগতে অস্বস্তি হল, গত ১২ মাসে চীনের মুদ্রা ইউয়ানের তুলনায় টাকার পতন হয়েছে ১৪ শতাংশ। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচ পড়েছে ১ মার্চ থেকে। তাহলে বিগত তিন মাস ধরে কেন আফগানির তুলনাতেও দুর্বল হয়ে চলেছে টাকা? এই প্রশ্নের উত্তর রয়েছে এশিয়ার মুদ্রা বাজারে। বস্তুত গত বছর থেকেই গোটা এশিয়ার মধ্যে সবথেকে দুর্বল মুদ্রা হয়েছে ভারতীয় টাকা। ডলারের বিনিময়ে মুদ্রার মূল্য সব দেশেই কমেছে। কিন্তু ভারতের মতো এত বৃহৎ ধাক্কা কোনো দেশের মুদ্রা খায়নি। মার্চ মাসের হিসাবে দেখা যাচ্ছে, সবথেকে দুর্বলতম মুদ্রা ইরানের রিয়াল। এরপর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে লেবাননের মুদ্রা। এই দুই দেশের মুদ্রার পতন স্বাভাবিক। কারণ, এই দুই দেশেই চলছে যুদ্ধ। কিন্তু যে দেশ ঘোষণা করেছে তারা ইতিমধ্যেই চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে, সেই ভারতের স্থান তারপরই। বাংলাদেশের মুদ্রারও এত পতন ঘটেনি। সোমবার শেয়ার বাজারের এত বড় পতন হয়েছে যে, একদিনে ১০ লক্ষ কোটি টাকা উধাও হয়েছে মার্কেট থেকে। এই পতন যে অব্যাহত থাকতে পারে, সেরকমই পূর্বাভাস দিয়েছে একাধিক আর্থিক সংস্থা। কারণ বিদেশি আর্থিক সংস্থাগুলির ভারত থেকে লগ্নি প্রত্যাহার করে নেওয়া অব্যাহত। এই প্রেক্ষিতে সংসদের অধিবেশন সমাপ্ত হওয়ার পর অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রকের সঙ্গে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক কথা বলবে স্থির হয়েছে। তার আগে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নীতি নির্ধারণ কমিটির বৈঠক হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ