সংবাদদাতা, বোলপুর: অবশেষে পুলিসের কাছে হাজিরা দিলেন অনুব্রত মণ্ডল। বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে গালিগালাজ ও হুমকির মামলায় বৃহস্পতিবার বোলপুরের এসডিপিও অফিসে হাজিরা দেন তিনি। সূত্রের খবর, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে কড়া বার্তা ছিল— তদন্তে সহযোগিতা করতেই হবে। এই বার্তার পর অনুব্রতর সামনে আর কোনও পথ খোলা ছিল না। বাধ্য হয়েই বীরভূমের একদা দোর্দণ্ডপ্রতাপ কেষ্ট পুলিসের মুখোমুখি হন বলে রাজনৈতিক মহলের মত। এসডিপিও অফিস থেকে বেরিয়ে তিনি বোলপুর পার্টি অফিসে আসেন। সেখানে সন্ধ্যা সাতটা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ছিলেন। বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকরা ছেঁকে ধরলে তিনি বলেন, ‘এখন কিছু বলব না। দু’ দিন চালচলন দেখি। তারপরেই সব বলব।’ কাদের ‘চালচলন’ তিনি দেখতে চাইছেন, তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি।
এদিন বিকেল সাড়ে তিনটে থেকে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত জেরার মুখোমুখি হন অনুব্রত। নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছিল এসডিপিও অফিস চত্বর। টানা দু’ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর এসডিপিও অফিস থেকে কালো এসইউভি চড়ে বেরিয়ে যান তিনি। সঙ্গে ছিলেন আপ্ত সহায়ক বিশ্বরূপ মণ্ডল এবং আইনজীবী বিপদতারণ ভট্টাচার্য।
উল্লেখ্য, এক অনুগামীকে বেধড়ক মারধরের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বোলপুরের আইসিকে ফোনে কদর্য ভাষায় গালিগালাজ করেন অনুব্রত। তার অডিও ফাইল সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হতেই রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে। দলের নির্দেশে তিনি ক্ষমাও চান। তবে, ক্ষমা চাইলেও স্বস্তি পাননি। কারণ, পুলিস তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায়সংহিতার জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে নোটিস দেওয়া হলেও শনি ও রবি দু’ দিনই তিনি হাজিরা এড়ান। আইনজীবী বিপদতারণ ভট্টাচার্য ও শিক্ষাবন্ধু সেলের রাজ্য সভাপতি দেবব্রত ওরফে গগন সরকার অনুব্রতর মেডিক্যাল সার্টিফিকেট জমা দেন থানায়। তাঁরা জানান, অনুব্রত অসুস্থ, তাঁকে ডাক্তার পাঁচদিন ‘বেড রেস্ট’-এর পরামর্শ দিয়েছেন। অনুব্রতকে বিশ্রামের পরামর্শ দেওয়া ডাক্তারের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়। ফলে গোটা রাজ্যে শুরু হয় আলোচনা— আদৌ কি তিনি হাজিরা দেবেন এসডিপিওর অফিসে।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ সংবাদ মাধ্যমের নজর এড়িয়ে একটি কালো এসইউভি চড়ে হলুদ পাঞ্জাবি পরিহিত অনুব্রত এসডিপিও অফিসে হাজির হন। কিছুক্ষণ পর জেরা শুরু করেন ঘটনার তদন্তকারী অফিসার তথা বোলপুরের এসডিপিও রিকি আগরওয়াল। জেরা চলে টানা দু’ ঘন্টা। পুরো পর্বটি ভিডিও রেকর্ডিং করা হয় বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে। সাড়ে পাঁচটা নাগাদ আপ্ত সহায়ক বিশ্বরূপ মণ্ডল এবং আইনজীবী বিপদতারণ ভট্টাচার্যের সঙ্গে তিনি দলীয় কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যান। তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে কিছু বলতে চাননি বোলপুরের এসডিপিও রিকি আগরওয়াল। তবে অনুব্রতর ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য, তিনি তদন্তে সহযোগিতা করেছেন।
অনুব্রতর আইনজীবী বিপদতারণ ভট্টাচার্যের দাবি, বীরভূম জেলা তৃণমূল কোর কমিটির এক বিশিষ্ট সদস্য তাঁর একজন মনের মতো ব্যক্তিকে আমার কাছে পাঠিয়ে কেষ্টদার বিরুদ্ধে কথা বলতে বলেছিলেন। বলেছিলেন, যা সাহায্য চাইবেন পাবেন। আমি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছি। তবে কে বলেছিলেন তা আমি বলব না। তিনি কাজল শেখের উদ্দেশে বলেছেন কি না তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। - নিজস্ব চিত্র