Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ২৮ ফেব্রুয়ারি, একদফায় ভোট? প্রস্তাব দিল্লিকে

আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পর মঙ্গলবার এসআইআরের নতুন সূচি প্রকাশ।

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ২৮ ফেব্রুয়ারি, একদফায় ভোট? প্রস্তাব দিল্লিকে
  • ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পর মঙ্গলবার এসআইআরের নতুন সূচি প্রকাশ। আর তাতেই এই তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আসন্ন ভোট প্রস্তুতি বৈঠক সারতে এদিন সকালে দিল্লি উড়ে গিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়াল। নির্বাচন সদনে জ্ঞানেশ কুমারদের সঙ্গে বৈঠক শেষ হওয়ার পরই রাজ্যে এসআইআরের পরিবর্তিত সূচি সংক্রান্ত ওই নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়। এছাড়াও সূত্রের খবর, পরিবর্তিত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে রাজ্যে এবার একদফায় বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রস্তাব দিয়েছেন সিইও মনোজ। যদিও কমিশন এরাজ্যে দুই থেকে তিন দফায় নির্বাচন করার চিন্তা-ভাবনা নিয়ে এগচ্ছে বলেই জানা যাচ্ছে। পর্যাপ্ত সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের লক্ষ্যেই দুই বঙ্গে একসঙ্গে ভোট করানোর পক্ষপাতী নয় কমিশন। শান্তিপূর্ণ ভোট করতে হলে অবশ্যই পর্যাপ্ত বাহিনীর প্রয়োজন হবে। সেক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে কত সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী পাওয়া যাবে? কোথায় কত বাহিনী মোতায়েন হবে? কত সংখ্যক স্পর্শকাতর বুথ থাকবে? এইসব যাচাই করেই দফা ঠিক হবে বলে সূত্রের খবর। কমিশনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম দফায় ভোট হতে পারে উত্তরবঙ্গের ৮ জেলায়। এছাড়াও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে দু’দফায় ভেঙে ভোট করানোর ভাবনা রয়েছে কমিশনের। সেক্ষেত্রে কলকাতা, হাওড়া, দুই ২৪ পরগনা, হুগলি, নদীয়ায় ভোট হতে পারে একসঙ্গে। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে একসঙ্গে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা। তবে যদি একান্তই প্রয়োজন পড়ে, সেক্ষেত্রে বিহার নির্বাচনের মতো পশ্চিমবঙ্গেও দু’দফায় ভোট করানো হতে পারে বলে সূত্রের খবর। কারণ, এদিন জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে আগামী ৭ মে এই সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার মধ্যে গোটা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। সেই মতো হবে দফা নির্ধারণ। এই ইস্যুতে বৈঠকে আলোচনাও হয়েছে।

Advertisement

আর তারপরই এসআইআরের পরিবর্তিত সূচি সংক্রান্ত ওই নির্দেশিকা জারি করেছে কমিশন। সোমবার স্ক্রুটিনির জন্য সাতদিন সময়সীমা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছিল শীর্ষ আদালত। এছাড়া আগেই শুনানির সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে কমিশনে চিঠি পাঠিয়েছিলেন মনোজ। যাবতীয় বিষয় পর্যালোচনা করে এদিন বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। তাতে জানানো হয়েছে, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করতে হবে শুনানি প্রক্রিয়া। তার পরের সাতদিন, অর্থাৎ ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ইআরওরা স্ক্রুটিনি অর্থাৎ নথি যাচাই ও নিষ্পত্তির কাজ শেষ করবেন। আর ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রগুলির পুনর্বিন্যাস এবং ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বয়স্ক ভোটারদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য ও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে। আর ২৮ তারিখ প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। আগের সূচি অনুযায়ী গত শনিবার, অর্থাৎ ৭ ফেব্রুয়ারি ছিল এসআইআরের শুনানির শেষ দিন। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা ছিল। সেই সূচির পরিবর্তন করল কমিশন। এদিন পর্যন্ত ১ কোটি ৫২ লক্ষের মধ্যে ১ কোটি ৪৮ লক্ষ নোটিস ইস্যু করা হয়েছে। ৩ লক্ষ ৫৫ হাজার ভোটারের কোনো হদিশ না মেলায় নোটিস দেওয়া যায়নি। পাশাপাশি, এদিন পর্যন্ত ১ কোটি ৪১ লক্ষ ভোটারের শুনানি শেষ হয়েছে বলে খবর।
এদিকে, সোমবারই সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য নথি যাচাইয়ের জন্য ৮ হাজার ৫০৫ জন গ্রুপ-বি অফিসার দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। মঙ্গলবারই এই আধিকারিকদের কাজে যোগদানের কথা। কিন্তু সূত্রের খবর, সময় পেরিয়ে গেলেও রাজ্যের থেকে আধিকারিকদের তালিকা সিইও অফিসে আসেনি। তাই এদিন ওই আধিকারিকদের নিয়োগ হয়নি। যদিও রাজ্য জানিয়েছে, নামের তালিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ