


নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: আবহাওয়ার তারতম্যের জেরে ঘরে ঘরে বাড়ছে জ্বর, সর্দি, কাশিতে আক্রান্তের সংখ্যা। শুরুতেই অ্যান্টিবায়োটিক নয়, রোদ পোহানো, গরম জল খাওয়ার মতো ঘরোয়া পদ্ধতিতে চিকিত্সার পরামর্শ দিচ্ছেন ডাক্তারদের একাংশ।
মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ পার্থসারথি রায় বলেন, যেহেতু এই সময় আবহাওয়ার তারতম্য ঘটছে, তাই ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি, কাশি শুরু হয়েছে। এর জন্য বেশকিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে বাড়িতে বাচ্চা এবং বয়ষ্করা থাকলে বেশি সতর্ক থাকতে হবে। পার্থসারথি জানান, দিনে যতক্ষণ সম্ভব রোদে সময় কাটাতে হবে। বিকেলের পর থেকে কান ঢেকে রাখা, গার্গল এবং ঠান্ডার পরিবর্তে গরম জল খেতে হবে। বাচ্চা এবং বয়ষ্কদের ক্ষেত্রে সবসময় পায়ে মোজা পরিয়ে রাখলে ভালো হয়।
রবিবার মালদহের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১.৮। রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও দিনে স্বাভাবিকের থেকে প্রায় দশ ডিগ্রি কম। কোনওদিন আবার পারদ নেমে যাচ্ছে ১৫ ডিগ্রির নীচে। তাপমাত্রার এই তারতম্যের জন্যই বাড়ছে, জ্বর, সর্দিও ও কাশি। আবহাওয়া দপ্তরের উত্তরবঙ্গের কো- অর্ডিনেটর গোপীনাথ রাহা বলেন, মাঝে মধ্যেই উত্তর-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্ব ভারত পর্যন্ত মেঘের আস্তরণ সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে সূর্যের কিরণ ঠিকমতো ভূ-পৃষ্ঠে পৌঁছতে পারছে না। এতে দিনের তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে। আবার যেদিন মেঘের আস্তরণ সরে যাচ্ছে, সেদিন দিনে বেড়ে যাচ্ছে তাপমাত্রা। সঙ্গে প্রতিদিন বিকেলের পর থেকেই বইছে ঠান্ডা হাওয়া।
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, দুপুরের পর থেকে শুরু হয়ে ঠান্ডা হাওয়া বইছে ভোরবেলা পর্যন্ত। কখনও কখনও সকাল দশটাতেও। এর জেরেই ঘরে ঘরে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে। এরকম আবহাওয়া হলে কানে ইনফেকশন, সর্দি লেগে বুকে কফ জমার সম্ভাবনা বাড়ে। গলায় ব্যথাও হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে শুরুতেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বহু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে ওষুধের দোকান থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। বিশেষ করে কোভিড মহামারির সময় থেকে এই অভ্যেস বেড়েছে। সেটা না করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিত্সকরা। এমনটা করলে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
পার্থসারথির কথায়, ঠান্ডা লেগে শরীর খারাপ হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জ্বর কমাতে ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি শরীরের ইমিউনিটি বাড়ানোর জন্য সুষম খাবার খেতে হবে। এছাড়া শরীরে সরাসরি রোদ লাগানোর ফলে ভিটামিন ‘ডি’ এর ঘাটতি মিটবে এবং ইমিউনিটিও বাড়বে।