Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

লক্ষাধিক নাম বাদ যাওয়ার শঙ্কা সিএএতেও আশাবাদী নন মতুয়ারা, আজ বনগাঁয় মমতা কী বলেন, তাকিয়ে আম জনতা

আজ, মঙ্গলবার মতুয়াগড়ে জোড়া কর্মসূচিতে আসছেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর-এর প্রতিবাদে সভা ও মিছিল করবেন তিনি।

লক্ষাধিক নাম বাদ যাওয়ার শঙ্কা সিএএতেও আশাবাদী নন মতুয়ারা, আজ বনগাঁয় মমতা কী বলেন, তাকিয়ে আম জনতা
  • ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: আজ, মঙ্গলবার মতুয়াগড়ে জোড়া কর্মসূচিতে আসছেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর-এর প্রতিবাদে সভা ও মিছিল করবেন তিনি। এই কর্মসূচি থেকেই যে তিনি মতুয়াগড়ে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজিয়ে দেবেন, বলার অপেক্ষা রাখে না। মুখ্যমন্ত্রী এই পরিস্থিতিতে কী বার্তা দেন, ভোটাধিকার হারানোর ভয়ে সিঁটিয়ে থাকা মতুয়া সমাজের একটা বড় অংশ সহ আম জনতা সেদিকেই তাকিয়ে আছে। কারণ, সিএএ নিয়ে আশাবাদী নন মতুয়ারা। অনেকেই ঠাকুরবাড়ির সিএএ ক্যাম্পে গিয়ে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু সেই আবেদনের নথি এসআইআরের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হবে—এমন কোনও ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। ফলে নতুন ভোটার তালিকায় মতুয়া সমাজের কয়েক লক্ষ মানুষের নাম বাদ যেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসআইআর পর্বে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে মতুয়া ও নমঃশুদ্রদের মধ্যে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই ইস্যুতে দিল্লি অভিযানের চূড়ান্ত দিন বনগাঁ থেকেই ঘোষণা করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যে এই কর্মসূচির জন্য অনুমতি চেয়ে দিল্লি পুলিশকে চিঠি দিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতা ঠাকুর। ২০১৯ সালে সিএএ-এ আসার পর কতজন নাগিরকত্ব পেয়েছেন, সেই প্রশ্নও তুলবে তৃণমূল। 

Advertisement

এসআইআর ঘোষণা হতেই বনগাঁর ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে সিএএ ক্যাম্প খোলা হয়। সেখান থেকে দেওয়া হচ্ছে ‘হিন্দুত্বের সার্টিফিকেট’। তা সংগ্রহ করার পর সিএএ-তে নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারছিলেন মতুয়ারা। কিন্তু এনিয়ে তীব্র বিতর্ক হয়। টাকার বিনিময়ে কীভাবে একটি সংগঠন এভাবে সার্টিফিকেট দেয়, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। মূলত অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের মতুয়া কার্ড সংগ্রহ করার পর টাকার বিনিময়ে ‘হিন্দুত্বের সার্টিফিকেট’ সংগ্রহ করছিলেন অনেকে। তাতে আপত্তি জানান সংঘাধিপতি মমতা ঠাকুর। এখন দেখা যাচ্ছে, ঠাকুরবাড়িতে সিএএ ক্যাম্পে আসা মানুষের সংখ্যা অনেক কমে এসেছে। সুব্রত ঠাকুর ও শান্তনু ঠাকুরের আলাদা আলাদা ক্যাম্প বসেছে। কিন্তু লোকজন আসছেন হাতেগোনা। 
এদিন হরিণঘাটা থেকে ক্যাম্পে এসেছিলেন সুমন বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘অনেকেই হিন্দুত্বের কার্ড করেছে। তাই আমিও করাতে এলাম। কাজ হোক বা না হোক, করিয়ে রাখলাম। আমার বাবা বাংলাদেশি। তবে আমার জন্ম ভারতেই। তবুও সিএএ-তে আবেদন করে রাখলাম।’ বনগাঁর বাসিন্দা আরতি সাহা এদিন ক্যাম্পে আসেন। ঠাকুরবাড়ির নাটমন্দিরের ভিতর ক্যাম্পে গিয়ে তিনি কার্ড করান। পরে বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী তো আসছেন। তিনি কী বলেন, দেখি।’ মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচি নিয়ে তৃণমূল নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, নারায়ণ গোস্বামীদের বক্তব্য, বিজেপি ভোট এলেই নাগরিকত্বের ধ্বজা ওড়ায়। ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের সময় সিএএ ঘোষণা করা হয়েছিল। বিজেপি কি একজনকেও দেখাতে পারবে, যে সিএএ-তে নাগরিকত্ব পেয়েছে? তৃণমূল নেতাদের দাবি, নেত্রীর দু’টি কর্মসূচিতেই  মতুয়াদের ভিড় উপচে পড়বে। কাঁপন ধরে যাবে বিজেপির। এদিকে, অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি মমতা ঠাকুর বলেন, ‘দলের নির্দেশমতো দিল্লিতে আমাদের অবস্থান বিক্ষোভ হবে। সেই জন্য দিল্লি পুলিশকে চিঠি দিয়েছি। নভেম্বর মাসের শেষের দিকে দিল্লি অভিযান হবে। একটাই দাবি, নিঃশর্ত নাগরিকত্ব।’ 

সম্পর্কিত সংবাদ