Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মেশিন নয়, প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে আখের গুড় তৈরি করছেন বাদুড়িয়ার কৃষকরা

আখের রস থেকে গুড় তৈরি করে ভালো লাভের মুখ দেখছেন বাদুড়িয়ার কৃষকরা। এবার শীতে অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি হয়নি। ফলে আখের ব্যাপক ফলন হয়েছে, তার গুণমানও বেশ ভালো বাদুড়িয়ার মাসিয়া, রামচন্দ্রপুর, হুগলিগা, কাঁকড়াসূতি, বারঘরিয়া এলাকায়। বিঘার পর বিঘা জমিতে আখচাষ হয়েছে।

মেশিন নয়, প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে আখের গুড় তৈরি করছেন বাদুড়িয়ার কৃষকরা
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বসিরহাট: আখের রস থেকে গুড় তৈরি করে ভালো লাভের মুখ দেখছেন বাদুড়িয়ার কৃষকরা। এবার শীতে অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি হয়নি। ফলে আখের ব্যাপক ফলন হয়েছে, তার গুণমানও বেশ ভালো বাদুড়িয়ার মাসিয়া, রামচন্দ্রপুর, হুগলিগা, কাঁকড়াসূতি, বারঘরিয়া এলাকায়। বিঘার পর বিঘা জমিতে আখচাষ হয়েছে।

Advertisement

অন্যান্য ফসলের তুলনায় আখচাষে বেশি আগ্রহী থাকেন কৃষকরা। কারণ এখানে শ্রম কম দিয়ে বেশি মুনাফা করা যায়। তা ছাড়া অন্যান্য চাষের তুলনায় সার, কীটনাশক কম ব্যবহার করতে হয়। এই আখচাষকে কেন্দ্র করে রামচন্দ্রপুর বুড়ির আমতলা এলাকায় বসানো হয়েছে ডিজেল চালিত ‘ক্রাশার’। এলাকার কৃষকরা তাঁদের ফলানো আখ কেটে নিয়ে এসে প্রথমে এখানে ‘ক্রাশ’ করছেন। এরপর সেই রস তিন থেকে চারবার ছাঁকনির মাধ্যমে ছেঁকে নিয়ে বড়ো টিনের নৌকায় জাল দেওয়া হচ্ছে। জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে আখেরই পরিত্যক্ত ছিবড়ে। টানা আট থেকে নয় ঘণ্টা জ্বাল দেওয়ার পর এই রস দানাদার গুড়ে রূপান্তরিত হয়। তবে এই কাজে প্রয়োজন সুদক্ষ শ্রমিকের। গুড়ের ঘনত্ব ঠিক রাখার জন্য প্রতিনিয়ত রস নাড়তে হয়। গুড় তৈরি হয়ে গেলে তা মাটির ভাড়ে সংগ্রহ করা হয়।
এলাকার কৃষক বছর ৭৬-এর ইব্রাহিম মণ্ডল বলেন, কোনো কেমিক্যাল বা রং ছাড়াই প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে তাঁরা এই গুড় তৈরি করে থাকেন। পরিবারের প্রয়োজনীয় সারা বছরের গুড় সংগ্রহ করার পর অতিরিক্ত তারা বাজারজাত করেন। বাড়ির অন্যান্য সদস্যরাও এই কাজে সাহায্য করেন। সরকারি সাহায্য পেলে আগামীতে আরও ভালো করে এই আখচাষ করবেন।
তবে গরম গুড় সংগ্রহের জন্য সকাল থেকেই খাতায় নাম লেখাতে হয় ক্রেতাদের। এই বিষয় এক ক্রেতা সুফিয়ান মণ্ডল বলেন, রামচন্দ্রপুরের আখের গুড়ের নাম এলাকায় যথেষ্টই রয়েছে। সব থেকে বড় কথা হল, দাম বেশি হলেও চোখের সামনেই এই গুড় তৈরি করে বিক্রি করা হয়। এখন ভিন জেলা থেকে লোকজন বুড়ির আমতলায় আসেন গুড় সংগ্রহ করতে। এমনই এক ক্রেতা সমীর গাইন জানান, গুড়ের দাম হয়তো একটু বেশি, কেজি প্রতি ২৬০ থেকে ৩০০ টাকা। তবে মাটির ভাড়ে প্রাকৃতিকভাবে এই গুড় সংগ্রহ করা হয়। আমি এবার আট কেজি গুড় নিয়েছি, সারা বছর ধরে ব্যবহারের জন্য। ভেজালের দুনিয়ায় ভালো প্রাকৃতিক কিছু পেয়েছি। এ সুযোগ হাতছাড়া করব না।
বিশিষ্ট আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক ডাঃ নিখিলেশ মিস্ত্রি বলেন, চিনির বিকল্প হিসেবে গুড় ব্যবহার করলে অনেক ক্ষেত্রেই আমরা সুস্থ থাকব। তাছাড়া আখের গুড় গরমের দিনে দারুন স্বাস্থ্যকর, তা যদি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে তৈরি করা হয়।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ