ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর (এনসিআরবি) হিসেবে, মোদি জমানার প্রথম ন’বছরে (২০১৪-২২) দেশে লক্ষাধিক কৃষক আত্মঘাতী হয়েছিলেন। অর্থাৎ দৈনিক আত্মঘাতী কৃষকের সংখ্যা ছিল অন্তত ৩০! তারপর কেটে গিয়েছে আরও আড়াই বছর। কিন্তু কৃষকের দুর্দাশার ছবিটার কিছুমাত্র পরিবর্তন হয়েছে কি? কী বলছে সরকারি পরিসংখ্যান? ডাবল ইঞ্জিন রাজ্য মহারাষ্ট্রে চলতি বছরের প্রথম তিনমাসেই ৭৬৭ জন কৃষক আত্মঘাতী হয়েছেন। রাজ্য বিধানসভায় খোদ বিজেপির সরকারই এই তথ্য জানিয়েছে। মহারাষ্ট্রে, মূলত বিদর্ভে কৃষকদের আত্মহত্যার বিষয়ে তথ্য চেয়েছিলেন এক কংগ্রেস বিধায়ক। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের পরিমাণ বৃদ্ধিরও দাবি জানান তিনি। জবাবে দেবেন্দ্র ফড়নবিশ সরকারের পুনর্বাসন মন্ত্রী মারকণ্ড পাতিল জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারি-মার্চে মহারাষ্ট্রে ৭৬৭ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। তাঁদের মধ্যে আর্থিক সাহায্য পেয়েছে ৩৭৬ জনের পরিবার। ওই তিনমাসে শুধু পশ্চিম বিদর্ভেই ২৫৭ জন কৃষক আত্মঘাতী হয়েছেন। তাঁদের অনেকেই সরকারি সাহায্য পাননি। এরই মধ্যে বৃদ্ধ কৃষক দম্পতি অম্বাদাস পাওয়ার এবং তাঁর স্ত্রী মুক্তাবাইয়ের চাষের কাজের একটি মর্মান্তিক ভিডিও সামনে এসেছে। তাতে মুখ পুড়েছে বিজেপি সরকারের। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, সর্বশক্তি দিয়ে লাঙল টানছেন লাতুরের ৭৫ বছরের অম্বাদাস। পিছনে হাল ধরে রেখেছেন তাঁর স্ত্রী। খবরে প্রকাশ, কয়েকবছর ধরে এভাবেই চাষ করছেন তাঁরা। আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হয়ে গিয়েছে তাঁদের। ফলে পরিবারটি এমন ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছে যে ট্রাক্টর, এমনকী হালের বলদ পর্যন্ত বেচে দিতে হয়েছে। জনমজুর ডাকারও টাকা নেই পরিবারটির। এজন্যই তাঁদের এমন করুণ দশা। অবশ্য এই পাওয়ার পরিবার একমাত্র নয়, মহারাষ্ট্রে বহু কৃষকই আজ এমন দুর্গতিতে পড়েছে। রাজনীতির কারবারিদের যা নীতি—এই ঘটনার দায় যথারীতি মহারাষ্ট্রের কোনও নেতা এবং সরকার নেননি। তাঁরা বরং কৃষকদেরই বিস্তর ফিরিস্তি দিয়েছেন। সেখানে নাকি পিএম কিষান সম্মান প্রকল্পের সফল রূপায়ণ হয়েছে। হতাশাগ্রস্ত কৃষকদের কাউন্সিলিংয়েরও ব্যবস্থা করেছে সরকার। সেচসেবিত জমির পরিমাণ বৃদ্ধির লক্ষ্যেও নিরন্তর কর্মযজ্ঞ চলেছে সেখানে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে এই মৃত্যুমিছিলের ব্যাখ্যা কী? কোনও যুক্তগ্রাহ্য জবাব মেলেনি।


