নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সাব টেনেন্সিতে চলা একটি দোকান হাতিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল ভুয়ো মৃত্যু শংসাপত্র। সেটি ইস্যু হয়েছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনরা পাঠানখালি গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে। ওই ভুয়ো শংসাপত্র ব্যবহার করে জালিয়াতির অভিযোগে শনিবার রাতে শেক্সপিয়র সরণি থানা দু’জনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের নাম জর্জ ক্লিনটন ডিকসন ও তাঁর স্ত্রী ক্যারল এরিকসন ডিকসন। প্রসঙ্গত, কয়েক মাস আগে ভুয়ো পাসপোর্ট-কাণ্ডের তদন্তে পাঠানখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের নাম উঠে আসে। অভিযোগ, ওই পঞ্চায়েত থেকে জন্ম-মৃত্যুর গুচ্ছ গুচ্ছ ভুয়ো শংসাপত্র ইস্যু হয়েছিল। গ্রেফতার করা হয় গৌতম সর্দার নমে সেখানকার এক চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে। এক্ষেত্রেও নাম জড়িয়েছে সেই পাঠানখালির। তদন্তে উঠে এসেছে গৌতমের নামও।
পুলিশ সূত্রে খবর, শেক্সপিয়র সরণি থানা এলাকার এ জে সি বোস রোডে একটি ট্রাস্টের মালিকানাধীন দোকানঘর ভাড়া নিয়েছিলেন সরল রায় ও নিত্যরঞ্জন ঘোষ। তাঁদের থেকে ওই দোকানঘর ভাড়া (সাব-টেনেন্ট) নেন ধৃত দম্পতি। ২০১৪ সালে নিত্যরঞ্জন মারা যান। অভিযোগ, সেই তথ্য জানার পর দোকানটি হাতাতে তৎপর হন জর্জ ও তাঁর স্ত্রী। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর করে তাঁরা জানতে পারেন, এর জন্য ভাড়াটিয়ার ডেথ সার্টিফিকেট লাগবে। ট্রাস্টের কাছে গিয়ে তাঁরা প্রথমে জানান, নিত্যরঞ্জনবাবু তাঁদের দোকানটি দিয়ে গিয়েছেন। ট্রাস্ট তখন চুক্তিপত্র এবং নিত্যরঞ্জনবাবুর ডেথ সার্টিফিকেট দেখতে চায়। সেটা দিতে পারছিলেন না ওই দম্পতি। ইতিমধ্যে এক দালাল জানায়, ডেথ সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা হয়ে যাবে। তারপর পাঠানখালি পঞ্চায়েতের কর্মী গৌতম সর্দারের সঙ্গে তাঁদের পরিচয় করিয়ে দেয়। অভিযোগ, হাজার দশেক টাকায় নিত্যরঞ্জনবাবুর ভুয়ো ডেথ সার্টিফিকেট তৈরি হয়। এদিকে, দোকান তুলে দিতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাস্ট মামলা করে। হাইকোর্টে ধরা পড়ে, নিত্যরঞ্জনবাবুর ভুয়ো ডেথ সার্টিফিকেট দিয়েছে গৌতম সর্দার। পঞ্চায়েতের পোর্টালেই তার উল্লেখ রয়েছে। শেক্সপিয়র সরণি থানা ওই নথি জোগাড় করে। ট্রাস্টের তরফেও অভিযোগ করা হয়। জানা যায়, সাব টেনেন্ট জর্জ ও তাঁর স্ত্রী দোকান দখলের জন্য এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন। তথ্যপ্রমাণ হাতে আসার পর শনিবার রাতে থানা এলাকা থেকেই দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। রবিবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।