রাজু চক্রবর্তী, কলকাতা:
রাজু চক্রবর্তী, কলকাতা:
ভোট কুশলী সংস্থা—বছর দশেক আগেও দেশের নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতির ময়দানে এমন শব্দবন্ধ খুব একটা শোনা যেত না। আর এখন রাজনৈতিক দলগুলির অন্যতম নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছে এই ধরনের সংস্থাই! ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপুল সাফল্যে প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা ‘আইপ্যাক’-এর ভূমিকা বারবার আলোচিত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের জন্য বিজেপি দু’টি ভোট কুশলী সংস্থাকে নিয়োগ করে। সেখানেই বেধেছে বিপত্তি! বিধানসভা ভোটের টিকিট দেওয়ার নামে রীতিমতো তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে এই দুই বেসরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে। বিধানসভা ভিত্তিক বিবিধ পরিসরে বিজেপি নেতা-কর্মী ও মানুষের মধ্যে কাজ করছে এই দুই এজেন্সি। তাদের রিপোর্ট যাচ্ছে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে। সেই রিপোর্ট পর্যালোচনা করেই চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাই করা হবে বলে প্রচার চালাচ্ছে সংস্থাগুলি। অভিযোগ, এই কথা বলে গেরুয়া শিবিরের বহু টিকিট প্রত্যাশীর সামনে ‘কনফার্মড টিকিট’-এর ললিপপ ঝুলিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলছে দুই সংস্থা।
দক্ষিণবঙ্গের দু’টি জেলার বেশ কয়েকজন বিজেপি পদাধিকারীর কাছ থেকে ইতিমধ্যে তারা মোটা টাকা বাগিয়েছে বলে খবর। তবে সম্প্রতি বিধায়ক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর সেই সব নেতার টনক নড়েছে। তাঁরা বুঝতে পারছেন, এসআইআর, সিএএ সহ একাধিক ইস্যুতে বঙ্গ বিজেপি গাড্ডায় পড়ে গিয়েছে। তার উপর নয়া রাজ্য কমিটি গঠন ঘিরে অনিশ্চয়তা এখনও অব্যাহত। সব মিলিয়ে ভোটের প্রক্কালে বিজেপির পালে তেমন হাওয়া নেই। পরিস্থিতি আঁচ করে টাকা ফেরত চেয়েছিলেন কয়েকজন। তখনই তাঁরা বুঝতে পারেন, আর্থিকভাবে প্রতারিত হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে রাজ্য বিজেপির শীর্ষস্তরে অভিযোগ জমা পড়েছে। অস্বস্তি বেড়েছে বঙ্গ বিজেপির। দলের রাজ্য কমিটির এক নেতার কথায়, ‘২০২১ সালে ভোটের আগে যোগদান মেলার মাধ্যমে পার্টিতে নাম লিখিয়েছেন বহু টিকিট প্রত্যাশী। সেবারও টাকার রফা করে বিজেপিতে আনুষ্ঠানিক যোগদান করিয়ে গুচ্ছ গুচ্ছ টিকিট বিলি করা হয়েছিল। আর এবার সরাসরি বেসরকারি এজেন্সিকে কাজে লাগিয়ে টাকা তোলা হচ্ছে।’ ওই নেতার আরও দাবি, এখন রাজ্য বিজেপিতে ভূমিপুত্রদের কার্যত পঙ্গু করে রাখা হয়েছে। ভিন রাজ্য থেকে উড়ে আসা কয়েকজন ‘মাতব্বর’ পার্টি চালাচ্ছেন। বঙ্গ বিজেপির পর্যবেক্ষক সুনীল বনসাল নিয়মিত কলকাতায় আসতে পারেন না। তাঁর ‘চোখ’ ও ‘কান’ হিসেবে কাজ করছেন উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা কে কে উপাধ্যায়। তিনিই প্রায় সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের তাঁর পরামর্শ, ‘টিকিটের জন্য এজেন্সিকে টাকা দেবেন না। বরং সাংগঠনিকভাবে নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করুন।’