শ্রীনগর: একজনের নাম আদিল হুসেন ঠোকার। বাড়ি অনন্তনাগ জেলায়। অপরজন পুলওয়ামা জেলার ত্রালের বাসিন্দা আসিফ শেখ। পহেলগাঁওয়ে হামলাকারীদের এই দুই লস্কর জঙ্গি সাহায্য করেছিল বলে পুলিস সূত্রে খবর। বৃহস্পতিবার রাতে প্রবল বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে এই দুই সন্দেহভাজনেরই বাড়ি। শুক্রবার সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, দুই জঙ্গির বাড়িতেই বিস্ফোরক মজুত ছিল। যদিও আসিফ শেখের বোনের দাবি, তল্লাশি চালাতে এসে বিস্ফোরক রেখে বাড়ি উড়িয়ে দিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীই। তবে দাদা যে ‘মুজাহিদিনে’র দলে যোগ দিয়েছিল, তা তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন।
সরকারি সূত্রে এদিন বলা হয়েছে, লস্কর জঙ্গি আদিল হুসেন ও আসিফ শেখের বাড়িতে নিরাপত্তা বাহিনী পৃথকভাবে তল্লাশি অভিযানে গিয়েছিল। সেখানে আগে থেকেই বিস্ফোরক মজুত ছিল। তল্লাশি চলার সময় সেখানে বিস্ফোরক মজুত করা রয়েছে টের পেয়ে দ্রুত বেরিয়ে আসেন জওয়ানরা। কানফাটা বিস্ফোরণে উড়ে যায় দুই জঙ্গির বাড়ি। রাতের আকাশে বহুদূর থেকেও আগুনের গোলা লক্ষ্য করা যায়। দুই জঙ্গির মধ্যে থোকারের বাড়ি দক্ষিণ কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলায়। অন্যদিক শেখের বাড়ি পুলওয়ামা জেলার ত্রালে। বৃহস্পতিবার দুই পাকিস্তানি জঙ্গির পাশাপাশি থোকারের স্কেচও প্রকাশ করেছিল অনন্তনাগ পুলিস। এই জঙ্গিদের সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানাতে পারলে ২০ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে বলেও পুলিস ঘোষণা করেছিল। স্থানীয় জঙ্গি হিসেবে থোকার ও শেখ হামলাকারীদের সাহায্য করেছিল বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর। তারই মধ্যে পৃথক বিস্ফোরণে এই দুই জঙ্গির বাড়ি উড়ে গেল।
বিস্ফোরণের ঘটনা সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর উল্টো সুর শোনা গিয়েছে আসিফ শেখের বোন বলেন, আমার এক দাদা জেলে আছে। অন্য দাদা মুজাহিদিন। আরও দুই বোন রয়েছে। গতকাল শ্বশুরবাড়ি থেকে এসে দেখি, বাবা-মা ও বোনেরা বাড়িতে নেই। পুলিস তাদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানরা আমাকে প্রতিবেশীর বাড়িতে চলে যেতে বলে। সেখান থেকে দেখতে পাই, সেনার উর্দি পরা একজন বাড়ির উপরে বোমার মতো কিছু একটা রেখে দিল। তারপরই বিস্ফোরণে বাড়িটা উড়ে যায়। ওরা আমাদের বাড়িটা ধ্বংস করে দিল। আমরা নির্দোষ। আমাদের কিছুই জানা নেই।