


পক্ষে
মৌ বিশ্বাস
বর্তমান প্রজন্মের কাছে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি আসক্তি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের প্রতিমুহূর্তের খুঁটিনাটি আপডেট তুলে ধরতে না পারলে যেন জীবন অসম্পূর্ণ। কোন বিষয় নিয়ে ব্যস্ত, তা বন্ধু, অনুসরণকারীদের কাছে তৎক্ষণাৎ পৌঁছে দেওয়াটাই যেন প্রকৃত সার্থকতা। ফলে সাধারণ জীবনচর্যার মধ্যে যে পরিতৃপ্তি আছে তা আস্বাদনে মানুষ বঞ্চিত চাকুরিজীবী
বনশ্রী মণ্ডল
বর্তমান প্রজন্মের কাছে সোশ্যাল মিডিয়া হল পেশা ও নেশা। সকালে ঘুম ভেঙে ওঠা থেকে শুরু করে ঘরের যাবতীয় কাজ,ব্যক্তিগত সম্পর্ক, খাওয়াদাওয়া ইত্যাদি সব শেয়ার হচ্ছে ভার্চুয়াল জগতে। দিবারাত্র ভাইরাল হওয়ার চক্করে একজনের তথ্য আরেকজনের হাতের মুঠোয়। এ যেন প্রতিযোগিতা! কে কার থেকে ভালো দেখাতে পারে! এর ফলে কু মন্তব্যের সৃষ্টি, সমালোচনা, একে অপরকে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি, হতাশা, একাকিত্ব, মানসিক চাপ, অবসাদ তৈরি হচ্ছে। যা বন্ধুত্ব থেকে পারিবারিক ও অন্যান্য সম্পর্কগুলোর ক্ষতি করছে। ছাত্রী
বিশ্বজিৎ কর
শুধু খাওয়াদাওয়া নয়, তার আইটেম থেকে শুরু করে কে কোথায় কার সঙ্গে যাচ্ছে, জামাকাপড় কী পরছে, সবকিছু সোশ্যাল মিডিয়ার আনাচেকানাচে তুলে ধরা এখন সংক্রামক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এমনকি সমাজসেবামূলক কার্যকলাপে নিজের বিভিন্ন ভঙ্গিমায় ছবি দেওয়ার উগ্র প্রবণতা সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন মেগাহিট! রিলস বানানোর ক্ষেত্রে তো অর্থোপার্জনের প্রাণান্তকর প্রচেষ্টায় ন্যূনতম ব্যক্তিগত পরিসর প্রায়শই কলঙ্কিত হচ্ছে।
অবসরপ্রাপ্ত কর্মী
উজ্জ্বল কুমার চট্টোপাধ্যায়
বর্তমান ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে মানুষ নিজের জীবনের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে। সোশ্যাল মিডিয়া মানুষের ব্যক্তিগত জীবনকে পাবলিক ডোমেনে পরিণত করে গোপনীয়তা নষ্ট করছে। যা সাইবার অপরাধ, নিরাপত্তার ঝুঁকি এবং মানসিক অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
চাকুরিজীবী
বিপক্ষে
অঙ্কুর প্রসাদ
ব্যক্তিগত তথ্য কতটা শেয়ার করা হবে, তার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে ব্যবহারকারীর হাতে। শক্তিশালী প্রাইভেসি সেটিংস ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা সহজেই ঠিক করতে পারি কারা আমাদের পোস্ট দেখতে পাবে। সোশ্যাল মিডিয়া মানুষকে একাকিত্ব থেকে মুক্তি দিয়ে বৃহত্তর সামাজিক মেলবন্ধনে আবদ্ধ করে। অসচেতনতা বা ভুল ব্যবহারের দায় প্রযুক্তির উপর চাপানো ঠিক নয়। সচেতনভাবে ব্যবহার করলে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিগত সত্তাকে আরও সমৃদ্ধ করে।
ছাত্র
তুষার ব্যানার্জী
সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে আজ দুনিয়া মুঠোবন্দি। সেখানে সবাই উপস্থিত যে যার মতো। নামকরা কলমচি থেকে রামা শ্যামার ইউটিউব, খেলা, বিজ্ঞান, সাহিত্য অথবা তথ্যানুসন্ধান পাচ্ছি। সোশ্যাল মিডিয়ার স্টিয়ারিং নিজেরই কাছে। রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটে বলে রাস্তাটাকে এড়িয়ে চলা অসম্ভব। ব্যক্তিগত পরিসরের মর্যাদা রাখার দায় ব্যবহারকারীর ভাবলে সোশ্যাল মিডিয়া অনন্ত সম্ভাবনামুখর।
অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ক কর্মী
ভাস্বতী মণ্ডল
অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার মানেই নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন প্রকাশ করা নয়। সোশ্যাল মিডিয়া এখন একটি অর্থ উপার্জনের অন্যতম মাধ্যম, আবার বিভিন্ন দেশ-বিদেশের তথ্যেরও সন্ধান পাওয়া যায় এখান থেকে। তাই এমন অনেক মানুষই রয়েছেন, যাঁরা ব্যক্তিগত জীবন প্রকাশ না করেও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন। বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন অথবা নিজের সৃজনশীলতা প্রকাশের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করেন।
ছাত্রী
দেবাশিস হাজরা
আট বা নয়ের দশকে একে অপরের বাড়িতে গেলে বেড়ানো, বিয়ে-অন্নপ্রাশন-জন্মদিনের ফোটো-অ্যালবাম দেখানোর রেওয়াজ ছিল। এখন পাশের ঘরের মানুষের দিকে তাকানোর সময় নেই। ঠিক তখনই এই সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে জীবনের আবেগ-অনুভূতি, সাফল্য, আনন্দ, যন্ত্রণা অগুন্তি মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছে। সহমর্মী মানুষদের সঙ্গে এক সৌহার্দ্যমূলক সম্পর্ক গড়ে উঠছে। যা একাকিত্ব লাঘব করতে সক্ষম হচ্ছে। যা প্রকৃতপক্ষে সামাজিক বন্ধনকেও সুদৃঢ় করছে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালক