Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রেসক্রিপশন অমান্য করে অতিরিক্ত ওষুধ অন্তঃসত্ত্বাকে, মৃত গর্ভস্থ শিশু!

সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে নিয়ে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এসেছিলেন পানিহাটির এক যুবক। চিকিৎসক রোগীকে দেখে প্রেসক্রিপশন লিখে দিয়েছিলেন।

প্রেসক্রিপশন অমান্য করে অতিরিক্ত ওষুধ অন্তঃসত্ত্বাকে, মৃত গর্ভস্থ শিশু!
  • ২৯ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে নিয়ে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এসেছিলেন পানিহাটির এক যুবক। চিকিৎসক রোগীকে দেখে প্রেসক্রিপশন লিখে দিয়েছিলেন। কিন্তু সে প্রেসক্রিপশন অমান্য করে অতিরিক্ত ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ উঠল ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকানের বিরুদ্ধে। ওই গৃহবধূর পরিবারের অভিযোগ, সেই ওষুধ খেয়ে মৃত্যু হয়েছে গর্ভস্থ শিশুর। আর মৃতপ্রায় দশা মহিলার। এই ঘটনায় কামারহাটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে রোগী পক্ষ। পুলিস জানিয়েছে, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, পানিহাটির স্বদেশী এলাকার বাসিন্দা রাহুল মাহাত। তাঁর স্ত্রী সন্তানসম্ভবা। তিনি সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্ত্রীকে নিয়মিত চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসছেন। শনিবার রাতে স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাতে তাঁরা আসেন সাগর দত্তে। হাসপাতালের চিকিৎসক মহিলাকে দেখে প্রেসক্রিপশন লিখে দেন। রাহুলবাবুর দাবি, তিনি প্রেসক্রিপশন নিয়ে হাসপাতালের মধ্যে থাকা ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকানে যান। সেখান থেকেই প্রেশক্রিপশনে লেখা সমস্ত ওষুধগুলি কেনেন। রাতে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফিরে ওষুধ খাওয়ান। তারপর সকালে স্ত্রী আরও অসুস্থ বোধ করতে থাকেন। রবিবার সকালে ফের নিয়ে যান হাসপাতালে। আগের রাতে কেনা সমস্ত ওষুধ চিকিৎসককে দেখান। চিকিৎসক অতিরিক্ত একটি ওষুধ দেখে তা নিয়ে প্রশ্ন করেন। ওই ওষুধ কার পরামর্শে কেন খাওয়ানো হচ্ছে জানতে চান। রাহুল তাঁকে ন্যায্যমূল্যের দোকান থেকে কেনা হয়েছে বলে জানানোর পর চিকিৎসক বলেন ওই ওষুধ খেয়েই বড়সড় বিপদ হয়েছে। রাহুলবাবু বলেন, ‘ওষুধটি প্রেসক্রিপশনে লেখা ছিল না। দোকান তা নিজে থেকে দিয়েছে। সেটি কিভাবে খেতে হবে সেটিও বলে দিয়েছে। ওদের দেওয়া এই অতিরিক্ত ওষুধের কারণেই গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আমার স্ত্রী মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা কষছেন। আমি কামারহাটি থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি চাই।’ এদিন হাসপাতালে উপস্থিত থাকা কিছু রোগীর পরিবারও ওই ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকানটি নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তাঁদের অভিযোগ, ওষুধ দেওয়ার পর পাকা রশিদ দেওয়া হয় না। সাদা কাগজে লিখে ছে঩ড়ে দেওয়া হয়। হাসপাতালের সুপার সুজয় মিস্ত্রি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাদের কাছে এ সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ এলে সবকিছু খতিয়ে দেখে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

সম্পর্কিত সংবাদ