শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: বাড়িতে অশুভ শক্তির বাস। পরিবারে উন্নতি নেই এই কারণে। ‘কালা জাদু’ করেছে কেউ। পরিবারের সকলের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এর প্রকোপ কাটাতে তন্ত্রমন্ত্র, যাগযজ্ঞ করতে হবে। কালা জাদুর প্রভাব নষ্ট করতে আলাদা ‘ক্রিয়া’ করতে হবে। তন্ত্রবিদ্যায় পারদর্শীকে নিয়ে এসে গোটা কাজটি চলবে। এরজন্য প্রথমে অল্প পরিমাণ টাকা নেওয়া হয়। এভাবেই জাদুটোনা’র ভয় দেখিয়ে উত্তর কলকাতার মুক্তারামবাবু স্ট্রিটের বাসিন্দা এক ব্যবসায়ী রাকেশ কুমার সিংহানিয়ার পুত্রের কাছে থেকে দিনের পর দিন টাকা নিচ্ছিল দুই প্রতারক। শেষে বলা হয়, ৩০ লাখ টাকা না দিলে, অশুভ আত্মাকে দিয়ে গোটা পরিবারের সর্বনাশ করানো হবে। আশ্চর্যের হলেও সত্যি, ওই দুই প্রতারকের একজন ব্যবসায়ী পুত্রের পূর্বপরিচিত বন্ধু, বাস্কেটবল প্লেয়ার। এই বিষয়ে ব্যবসায়ী সিংহানিয়া পরিবারের তরফে জোড়াসাঁকো থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। তার ভিত্তিতে তোলাবাজির মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে লালবাজার।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, জোড়াসাঁকো এলাকার মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটের বাসিন্দা ওই ব্যবসায়ীর ছেলে বাস্কেটবল অনুশীলন করেন। সেখানে তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় শ্লোক নামে অপর এক বাস্কেটবল প্লেয়ারের। শ্লোকের মাধ্যমে অন্য এক যুবকের সঙ্গে আলাপ হয় ব্যবসায়ী পুত্রের। ওই যুবক নিজেকে জিদান বলে পরিচয় দেয়। কথায় কথায় জানায় সে নামী ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ছাত্র। ঘটনাচক্রে অভিযোগকারী ব্যবসায়ীর পুত্রও ওই স্কুলে পড়েন। এরপর দুই অভিযুক্ত সিংহানিয়াদের মুক্তারামবাবু স্ট্রিটের বাড়িতে আসে। ঘরে ঢুকেই তারা জানায়, সেখানে অশুভ শক্তি ঘোরাফেরা করছে। সেই শক্তির এতটাই প্রভাব যে, ব্যবসায়ী ও তাঁর স্ত্রী তাঁদের নিজের ছেলেরই ক্ষতি করবেন। এমনকী তাঁদের ছেলের খুব একটা লেখাপড়াও হবে না। কালা জাদু কুপ্রভাব এমন পর্যায়ে পৌঁছবে, যেখানে পরিবারের কেউ জীবিত থাকবেন না। একথা শুনে ভয় পেয়ে যায় ব্যবসায়ী পুত্র। তখন তাকে দুই অভিযুক্ত জানায়, টাকা দিলে তন্ত্রমন্ত্র করে কর এসব অশুভ আত্মাকে হটিয়ে দেওয়া যাবে।
পুলিস জানিয়েছে, প্রথমে বাড়িতে না জানিয়ে ব্যবসায়ী পুত্র শ্লোক ও তার সঙ্গীকে হাজার পাঁচেক মতো টাকা দেয়। তখনই দুই অভিযুক্ত বুঝে যায়, দাবি করলে টাকা মিলবে। এরপর থেকে ক্রমাগত টাকা দাবি করতে থাকে তারা। এমনকী প্রয়োজন মাফিক টাকা না মিললে, পুরো পরিবারকে ছারখার করে দেওয়ার শক্তিও তারা রাখে। এসব কথায় ভীত-সন্ত্রস্ত ব্যবসায়ী পুত্র বাড়ির লোকজনকে না জানিয়ে ধাপে ধাপে ৩০ লক্ষ টাকা ও সোনার গয়না ওই দুই অভিযুক্ত দেয়। তারপরেও টাকার দাবি ক্রমাগত বাড়তে ব্যবসায়ী পুত্র বাবাকে গোটা ঘটনাটি জানায়। এর কিছুদিন পর থেকে দুই অভিযুক্তের মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। জালিয়াতদের পাল্লায় পড়েছেন বুঝতে পেরে রাকেশ কুমার সিংহানিয়া জোড়াসাঁকো থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তদন্তে নেমে জানা যায়, অভিযুক্তরা কালা জাদুর নাম করে বিভিন্ন জনকে ঠকিয়ে বেড়াচ্ছে। ধনী পরিবারের অল্পবয়সীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতানোর পর তাঁদের বাড়িতে গিয়ে অশুভ শক্তির ভয় দেখিয়ে জোর করে টাকা আদায় করছে। পুলিস তদন্তে নেমে মোবাইলের সূত্র ধরে ওই বাস্কেটবল খেলোয়াড় ও তার সঙ্গীকে খুঁজছে।