Bartaman Logo
২৯ মে, ২০২৬

পহেলগাঁওয়ের আঁচ উপত্যকার শেষ গ্রামেও, ছন্দে দ্রাস-কার্গিল

সোনমার্গ থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে কাশ্মীর উপত্যকার শেষ গ্রাম সরবল। পাহাড়ের কোলে ছবির মতো সাজানো ছোট্ট একটা গ্রাম।

পহেলগাঁওয়ের আঁচ উপত্যকার  শেষ গ্রামেও, ছন্দে দ্রাস-কার্গিল
  • ২৭ মে, ২০২৫ ০৪:০০

শুভজিৎ অধিকারী, কার্গিল: সোনমার্গ থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে কাশ্মীর উপত্যকার শেষ গ্রাম সরবল। পাহাড়ের কোলে ছবির মতো সাজানো ছোট্ট একটা গ্রাম। জনসংখ্যা খুব বেশি নয়। স্থানীয়দের প্রধান জীবিকা কৃষিকাজ। সরবলে উৎপাদিত আলুর কদর গোটা বিশ্বে। গ্রামটি আরও একটি কারণে বিখ্যাত—দুরিনার ও বরফসার ট্রেকিংয়ের জন্য। শীতকালে অবশ্য পুরু বরফে ঢাকা পড়ে যায় এই গ্রাম। বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে চলে যান গনিওয়ান, কঙ্গনে। ফিরে আসেন ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি। সেই সময় থেকে শুরু হয়ে যায় পর্যটন মরসুমও। গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর সরবলের জীবন-ছন্দ বেশ বদলে গিয়েছে। পর্যটকদের দেখা নেই। ট্রেকারদের দেখাও নেই বললেই চলে। গ্রামে বেশ কয়েকটি দোকান রয়েছে। এতদিন সেগুলি বন্ধ ছিল। ক’দিন হল খুলেছে। কিন্তু, বেচাকেনা নেই। স্থানীয় হোটেলগুলিতে টাটকা সবজি সরবরাহ করতেন স্থানীয়রা। সেটা এখন হচ্ছে না। সবার পেটে খিদে। চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ। জমিতে গাজর চাষের পরিচর্যা করছিলেন মহম্মদ হায়দার। সত্তরের আশপাশে বয়স। বলছিলেন, ‘চার-পাঁচ মাসের এই পর্যটন মরসুম। অমরনাথ যাত্রার পর তেমন আর কেউ আসেন না। সেপ্টেম্বরের শুরুতে আমরা গ্রাম ছাড়তে শুরু করি। ফলে, এই কয়েক মাসের আয় দিয়ে আমাদের সারা বছরের সংসার চলে। এবার খুব সমস্যায় পড়েছি। তবে আশা করি, সব ঠিক হয়ে যাবে।’

Advertisement

সরবলের সীমানা শেষ, শুরু জোজি লা। দুর্গম পাহাড়ি পথ। রাস্তাও বেশ খারাপ। টানেল তৈরি হচ্ছে বলে হয়তো রাস্তা সারাই করার গরজ নেই। জোজি লাতে ঢোকার মুখেই চেকপোস্ট। সেনার একপ্রস্থ কড়া চেকিং পেরিয়ে সোজা দ্রাসের কার্গিল ওয়ার মেমোরিয়াল। সামনের পার্কিংয়ে গাড়ি রাখার জায়গা নেই। থিক থিক করেছে পর্যটক। পার্কিংয়ের ভিড় সামলানোর ফাঁকে দায়িত্বে থাকা রবি বলছিলেন, ‘গত ক’দিন এলাকাটি শুনশান ছিল। ২০ তারিখ থেকে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে।’ ১৯৯৯ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় আজকের দিনেই ‘অপারেশন সফেদ সাগর’ শুরু করে ভারতীয় বায়ুসেনা। ওয়ার মেমোরিয়ালের গাইড তথা সেনা আধিকারিক প্রায় ৩০ জনের একটি পর্যটক দলকে নিয়ে কার্গিল যুদ্ধের তথ্যচিত্র দেখালেন। তথ্যচিত্র শেষে ‘জয় হিন্দ’ ধ্বনিতে কেঁপে উঠল মেমোরিয়ালের প্রেক্ষাগৃহ। 
সেই দলেই ছিলেন গুজরাতের বাসিন্দা ইন্দ্রাণী বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রবাসী এই বাঙালি বলছিলেন, ‘কার্গিল শহরে পহেলগাঁও বা যুদ্ধ পরিস্থিতির কোনও ছাপ নজরে পড়েনি।’ সেকথা মানছেন মহম্মদ এহসানও। পর্যটন উন্নয়ন দপ্তরের সামনে চা-বিস্কুটের দোকান চালান। এহসান বলছিলেন, ‘কাশ্মীরে কোনও অস্থিরতা হলে আমাদের এখানকার স্বাভাবিক জনজীবনে খুব একটা প্রভাব পড়ে না। তবে, পর্যটন ধাক্কা খায়। এই একমাস বহু লোক হোটেল বুকিং বাতিল করেছেন। বাড়তি উপার্জন কিছুটা কমে গিয়েছে। এছাড়া সব ঠিকঠাক।’ ১৯৯৯ সালের রণক্ষেত্র দ্রাস-কার্গিল এখন অনেক বেশি শান্ত। স্থিতিশীল।

সম্পর্কিত সংবাদ