Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অভাবের সংসারেও চোখে স্বপ্ন! মেধাবীদের কেউ হতে চায় আইপিএস, কেউ ডাক্তার, কারও পাখির চোখ আইআইটি

বাবার মুদির দোকান। মেয়ে মাধ্যমিকে ৫৯৩ নম্বর পেয়ে পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করেছে। চায় চিকিৎসক হতে। মা বলছেন, ‘আপ্রাণ চেষ্টা করব।

অভাবের সংসারেও চোখে স্বপ্ন! মেধাবীদের কেউ হতে চায় আইপিএস, কেউ ডাক্তার, কারও পাখির চোখ আইআইটি
  • ৫ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, সংবাদদাতা, বারুইপুর ও বজবজ: বাবার মুদির দোকান। মেয়ে মাধ্যমিকে ৫৯৩ নম্বর পেয়ে পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করেছে। চায় চিকিৎসক হতে। মা বলছেন, ‘আপ্রাণ চেষ্টা করব।’ কারও বাবা বেসরকারি সংস্থার কালেকশন এজেন্ট। ছেলের পড়ার খরচ জোগাড় করতে ধারদেনা করতে হয়। ছেলে মাধ্যমিকে সাতটি বিষয়ে লেটার নিয়ে ৬৫৩ নম্বর পেয়েছে। আইআইটিতে পড়তে চায়। কারও বাবা রঙের কাজ করেন। ছেলে মাধ্যমিকে ৬২৬ পেয়েছে। অভাবের সংসারের মেধাবী সন্তান চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখে। কারও বাবা বেসরকারি সংস্থার চুক্তিভিত্তিক কর্মী। মেয়ের পড়াশোনার জন্য গৃহশিক্ষকের ব্যবস্থা পর্যন্ত করে উঠতে পারেননি। মেধাবী মেয়ে মাধ্যমিকে ৬১০ নম্বর পেয়েছে। চায় আইপিএস অফিসার হতে। এছাড়া কারও বাবা সিকিউরিটি গার্ড। কারও মা গৃহশিক্ষিকা। তাঁদের ছেলেমেয়েরা নজর কেড়েছে মাধ্যমিকে। অভাব সত্ত্বেও প্রত্যেকে চান সন্তানদের স্বপ্নপূরণ হোক। ভবিষ্যতে যা নিয়ে পড়তে চায় পড়ুক। তার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করব।

Advertisement

বারুইপুর গার্লস হাই স্কুলের ছাত্রী তিয়াসা ঘোষ ৬১০ নম্বর পেয়েছে। তার বাবা সুপ্রিয় ঘোষ বেসরকারি সংস্থার চুক্তিভিত্তিক কর্মী। মা গৃহবধূ। তিয়াসার আইপিএস হওয়ার স্বপ্ন। বারুইপুরের রাসমণি বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী অদিতি প্রামাণিক ৬১৫ পেয়েছে। বাবা অনুপম প্রামাণিক একটি স্কুলে ভোকেশানাল কোর্স শেখান। মা রেবেকা অঞ্জলি প্রামাণিক গৃহশিক্ষিকা। বলেন, ‘মেয়ের চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছে। ওর স্বপ্নপূরণ করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাব।’ মথুরাপুরের ঘোড়াদল হাই স্কুলের সৌমিলি পাইক পেয়েছে ৫৯৩ নম্বর। ওর বাবা সোমনাথ পাইক মুদির দোকান চালান। মা মানসীদেবী গৃহবধূ। মেয়ে চায় চিকিৎসক হতে। ঝড়খালি হেরোভাঙা বিদ্যাসাগর বিদ্যামন্দির স্কুলের ছাত্র সবুজ সরকার ৬২৬ পেয়েছে। বাবা শিশির সরকার রং করার কাজ করেন। মা প্রতিমা সরকার গৃহবধূ। অভাবের সংসার। সন্তান চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখে। সুদীপ্ত সিংহ বজবজের পিকে হাইস্কুলের ছাত্র। ৬৫৩ পেয়েছে। বাবা মলয় সিংহ বেসরকারি সংস্থায় কালেকশন এজেন্টের কাজ করেন। কোনও ক্রমে সংসার চলে। পড়ার খরচ চালাতে ধারদেনাও করতে হয়। সুদীপ্ত আইআইটি’তে ভর্তি হতে চায়। এই স্কুলেরই সৌম্যদীপ দাস ৬৪৪ পেয়েছে। বাবা হরেন্দ্রনাথ দাস সিকিউরিটি সংস্থার গার্ডের কাজ করেন। এই অভিভাবকদের সন্তানরা মেধাবী। ভবিষ্যতে ভালো পড়াশোনা করে সফল হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। তাদের স্বপ্ন সফল করাই এখন প্রধান লক্ষ্য মা-বাবাদের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ