নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মঙ্গলবার সকালের মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কোথাও কোথাও অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। এমন সম্ভাবনার জন্য ‘কমলা’ সতর্কতাযুক্ত পূর্বাভাস সোমবার দুপুরেই দিয়েছিল আবহাওয়া দপ্তর। কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলার কোনও কোনও জায়গায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল পূর্বাভাসে। কিন্তু সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার ভোরের মধ্যে কলকাতা ও দক্ষিণ শহরতলির কিছু এলাকায় এমন বিপুল পরিমাণ বৃষ্টি যে হবে, তার পূর্বাভাস দেওয়া যায়নি, মেনে নিয়েছেন আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস। তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটির সম্ভাব্য গতিপ্রকৃতি এবং বায়ুর গতিপথসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। অতঃপর তার গাণিতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমেই ইস্যু করা হয়েছিল বিশেষ পূর্বাভাসটি। কিন্তু তাঁর কথায়, তারপরও আবহাওয়া সংক্রান্ত পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা সবসময় থেকেই যায়। নিম্নচাপের প্রকৃত গতিপথ কিছুটা এদিক-ওদিক হওয়ার একটা সম্ভাবনা সবসময়ই থাকে।
আবহাওয়া কর্তা জানিয়েছেন, তাঁরা মনে করেছিলেন, মঙ্গলবার সকালের মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২০০ মিমির মতো বৃষ্টি হবে। ১১৫ মিমি-র মতো বৃষ্টি হবে কলকাতায়। কিন্তু বাস্তবে সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত আলিপুর আবহাওয়া অফিসে ২৫১.৪ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৩৫ মিমি বৃষ্টি হয়েছে রাত সাড়ে ১১টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপটি বেশি রাতেই পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশার উপকূলের কাছে চলে আসে। নিম্নচাপটির একটা অংশ প্রায় কলকাতার একটা অংশের উপর চলে আসে। নিম্নচাপের জেরে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। তার থেকে শক্তিশালী বৃষ্টির মেঘ সৃষ্টি হয়। কলকাতার দক্ষিণ অংশ ও দক্ষিণ শহতলির উপর এই মেঘের অবস্থান বেশি ছিল। তাই শহরের দক্ষিণ প্রান্তে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। তবে আবহাওয়াগত মাপকাঠিতে এটি ‘মেঘভাঙা বৃষ্টি’ বা ‘ক্লাউডব্লার্স্ট’ নয়।
হবিবুর রহমান জানিয়েছেন, মাটি থেকে ৫-৭ কিমি উঁচুতে যে মেঘ কলকাতার উপর আসে তার চরিত্র মেঘভাঙা বৃষ্টির ‘কিউমুলোনিম্বাস’ মেঘের মতো উলম্ব ছিল না। মেঘভাঙা বৃষ্টি বলা হয় কোনও নির্দিষ্ট জায়গায় ঘণ্টায় অন্তত ১০০ মিমি বৃষ্টি হলে। সেখানে আলিপুরে রাত ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত এই এক ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৯৮ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। কোনও জায়গায় এক ঘণ্টায় ১০০ মিমি বা তার বেশি বৃষ্টি হলেও মেঘের চরিত্রের কারণে এটিকে মেঘভাঙা বৃষ্টি বলা যাবে না।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সোমবার রাত ২টোর সময় তাঁরা কলকাতাসহ কয়েকটি জেলার জন্য বেশি বৃষ্টির ‘হলুদ’ সংকেত জারি করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করেন। এরপর ভোর রাত ৪টে ৮ মিনিটে ‘কমলা’ সংকেত দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে বলা হয়। এরপর ৪টে ৪৮ মিনিটে কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার জন্য ‘লাল’ সংকেত জারি হয় তখনই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে এই সতর্কবার্তা তখনই রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন আধিকারিকসহ বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দপ্তরের কাছে পৌঁছে যায়। জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিকর্তা।