রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন কিন্তু তারপরেও ইউনিয়নের পদে থেকে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ইউনিয়নের পদকে কাজে লাগিয়ে নিজের মত প্রকাশের চেষ্টা করছেন অন্য কর্মীদের মধ্যে। কিন্তু এবার থেকে তা আর হচ্ছে না। রাজ্যের শ্রমদপ্তরের তরফে যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে তাতে উল্লেখ, চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ইউনিয়ন সংক্রান্ত কোনও ধরনের পদে থাকা যাবে না। ওই ব্যক্তি থাকতে পারবেন না সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ প্রভৃতি পদে। এমনকী ইউনিয়নের নির্বাচনেও মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারবেন না তিনি।
অনেক সময়ই অভিযোগ সামনে এসেছে, ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে আঁকড়ে ধরে থাকছেন বাছাই করা নেতারা। অন্যদের ক্ষেত্রে সেই পদে আসার সুযোগ হচ্ছে না। একই ব্যক্তি বছরের পর বছর ধরে ইউনিয়নের উচ্চপদ আটকে থাকছেন বলে তথ্য সামনে এসেছে। সংগঠিত ক্ষেত্রের পরিসরে এবার নয়া বিধি কার্যকর করেছে রাজ্য শ্রমদপ্তর। মঙ্গলবার রাজ্যের রেজিস্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়নসের তরফে এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, শিল্প প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত কর্মক্ষেত্র থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি আর ইউনিয়নের সভাপতি, সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক, চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার, চিফ ফিনান্সিয়াল অফিসার প্রভৃতি পদে থাকতে পারবেন না। অবসর নেওয়ার পর ইউনিয়নের কোনও নির্বাচনে মনোনয়পত্র দাখিল করা কিংবা নির্বাচিত হলেও তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
এই বিজ্ঞপ্তির প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে সব রাজনৈতিক দলের শ্রমিক সংগঠনের কাছে। আইএনটিটিইউসি, এআইটিইউসি, এআইইউটিইউসি, সিটু, আইএনটিইউসি, ইউটিইউসি, টিইউসিসি, ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ সহ রাজ্যের ১১টি ইউনিয়নের কাছে এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।
কোনও কোনও ইউনিয়নে ১০ বছর বা তার বেশি সময় ধরে উচ্চপদ আগলে থাকার তথ্য রয়েছে। কিন্তু অবসর নেওয়ার পর সেই ব্যক্তি কেন ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বা কোষাধ্যক্ষ পদে থাকবেন, সেই প্রশ্নটাই কর্মীদের মধ্যে থেকে উঠেছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই এবার কড়া অবস্থান নিল রাজ্যের রেজিস্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়নস। অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মূল পদে থাকা আর নয়। সিইএসসি’তে এই ধরনের পদ নিয়ে কথাবার্তা চালাচালি হয়েছে শ্রমিক নেতাদের। শ্রমিক সংগঠনের কর্মীদের বক্তব্য, মৌরসি পাট্টা ভাঙা কিংবা যুগ যুগ ধরে চলে আসা বিষয়টিকে ভাঙতেই এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।