নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: একাধিক রাজ্যে একই নম্বরের এপিক বিতর্কে অবশেষে এবার ময়দানে নামল নির্বাচন কমিশন। জানা গিয়েছে, এবার বিশেষ পদ্ধতিতে দেশজুড়ে একাধিক রাজ্যে থাকা একই নম্বরের এপিক চিহ্নিত করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। এই ধরনের এপিকগুলি চিহ্নিতকরণের পর সেগুলিকে নতুন নম্বর দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, এপিক নিয়ে এহেন বিভ্রাটের বিষয়টি কমিশনের দরবারে নিয়ে এসেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কমিশনের নয়া সিদ্ধান্তে জোড়াফুল শিবিরের সেই অভিযোগই প্রতিষ্ঠিত হল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সোমবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে সব জেলা শাসকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই বার্তাই দিয়েছেন রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দিব্যেন্দু দাস। কিন্তু ঠিক কোন পদ্ধতিতে এই চিহ্নিতকরণের কাজ করা হবে? নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, এতদিন পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছেই দেশের সমস্ত ভোটারের বিস্তারিত তথ্য জমা থাকত। এবং তা যাচাইয়ের অধিকার ছিল শুধুমাত্র কমিশনেরই। এখন থেকে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা ইআরও’ও ভোটারদের তথ্য যাচাই করতে পারবেন। এবং তাঁদেরই একাধিক রাজ্যে একই এপিক নম্বরের কার্ড চিহ্নিত করতে হবে। এই ধরনের কার্ড চিহ্নিত হলে প্রথমেই দেখতে হবে, সেই এপিক নম্বর প্রথম কোন রাজ্যের। প্রথম যে রাজ্য ওই এপিক নাম্বার ব্যবহার করেছিল, সেই রাজ্যকে কিছুই করতে হবে না। অন্য যে রাজ্যে পরে ওই এপিক নম্বর ব্যবহার হয়েছে, সেই রাজ্যকেই তা পরিবর্তন করতে হবে। একই রকম ভাবে যদি অন্য রাজ্যের কোন এপিক কার্ডের নম্বরের সঙ্গে এই রাজ্যের এপিক কার্ডের নম্বর মিলে যায়, তাহলে এই রাজ্যের ইআরও সেই নম্বরকে পরিবর্তন করে নতুন নম্বর তৈরি করতে পারবেন।
কমিশন সূত্রে আরও খবর, এই ক্ষেত্রে কেবলমাত্র সেই সমস্ত এপিক কার্ডের নতুন নম্বর হবে, একাধিক রাজ্যে যাঁদের একই নম্বরের এপিক রয়েছে। জানা যাচ্ছে, ভোটার আই কার্ডে সোজা দিকে থাকবে নতুন এপিক নম্বর এবং পিছন দিকে থাকবে পুরনো এপিক নম্বর। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেহেতু পুরনো ওই এপিক নম্বর সমস্ত ক্ষেত্রে ব্যবহার করে এসেছেন, তাই ভবিষ্যতে যাতে কোনওরকম অসুবিধা না হয়, তাই এই ব্যবস্থা। কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, দ্রুততার সঙ্গে সব এপিক কার্ড খতিয়ে দেখতে হবে। চলতি মাসের মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। ইতিমধ্যেই সমস্ত জেলাকে কমিশনারের নির্দেশের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর।