শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: কংক্রিটের জঙ্গলে হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতি। সবুজ বাঁচাতে উদ্যোগ নিল সরকার। এবার পরিবেশরক্ষায় পুরসভা ধরে ধরে সরকারি জায়গায় গাছ বসানো হবে। তারপর পরিচর্যা করবেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। ‘একটি গাছ মায়ের নামে’-কর্মসূচির মাধ্যমে পাঁচ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে এই কাজ শুরু হবে দেশজুড়ে। তাই পুরসভা এলাকায় সরকারি জায়গা চিহ্নিত করার কাজ চলছে। গাছ রোপণের পর আগামী দু’বছর পরিচর্যার কাজের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের। ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ বাঁচবে, তেমনই রোজগার বাড়বে মহিলাদের।
কেন্দ্রীয় সরকারের আম্রুত ২.০ প্রকল্প চালু হয়েছে। এর মধ্যে একটি হল, আম্রুত মিত্র। পুর এলাকার পার্ক রক্ষণাবেক্ষণ, তদারকি থেকে ওয়াটার মিটার রিডিং সহ জলের গুণগত মান পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের কাজে যুক্ত রয়েছেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। পাশাপাশি ‘উইমেন ফর ট্রি’ নামে নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে একটি গাছ মায়ের নামে কর্মসূচিতে যুক্ত করা হচ্ছে মহিলা বাহিনীকে। জানা গিয়েছে, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে আপাতত দেশের পাঁচ রাজ্যকে যুক্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। এছাড়া মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, অন্ধ্রপ্রদেশ ও রাজস্থান আছে তালিকায়। আছে বাংলার ১০টি পুরসভা। উত্তর ২৪ পরগনার চারটি পুরসভা, মধ্যমগ্রাম, উত্তর দমদম, দমদম, নিউ বারাকপুর রয়েছে। এছাড়া আছে ডায়মন্ডহারবার, ইংলিশবাজার, জঙ্গিপুর, বাঁশবেড়িয়া, কোন্নগর ইত্যাদি। প্রশাসন সূত্রে খবর, পুর এলাকার সরকারি জায়গায় গাছ বসানো হবে। মধ্যমগ্রাম পুরসভার অধীনে রয়েছে এক হাজার ২৭১ টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী। এর মধ্যে এই প্রকল্পে ২৭টি গোষ্ঠীকে যুক্ত করা হয়েছে। ‘ন্যাশনাল আরবান লাইভলিহুড মিশন’ ও আম্রুত প্রকল্পের নোডাল অফিসার মধ্যমগ্রাম পুরসভার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের নিয়ে পার্ক, স্কুল, পুকুর, ক্যানালের মতো সরকারি জায়গা চিহ্নিত করেছে। পুর এলাকায় ৫০টিরও বেশি জায়গা ঠিক হয়েছে। চলতি মাসে আরও সরকারি জায়গা চিহ্নিত হবে। গাছ বসানোর জন্য করা হবে প্রচার। রাজ্য সরকারের নার্সারি ও বনদপ্তর চারা গাছের জোগান দেবে। ২০২৭ সাল পর্যন্ত মধ্যমগ্রামে যতগুলি গোষ্ঠীর মহিলা যত গাছ বসাবেন তাঁরাই পরিচর্যা করবেন। মধ্যমগ্রাম পুরসভার চেয়ারম্যান নিমাই ঘোষ বলেন, ‘তালিকায় বাংলার ১০টি পুরসভার মধ্যে রয়েছে আমাদের পুরসভাও। রাজ্য সরকারের নির্দেশমতো প্রক্রিয়া চলছে। এর ফলে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা বাড়তি টাকা উপার্জন করতে পারবেন। পাশাপাশি পরিবেশও বাঁচবে।’