Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বেসরকারি সংস্থার পুরস্কারে ‘আমরা-ওরা’ নিয়ে অসন্তোষ উদ্যোক্তাদের

জনতাই জনার্দন। তাঁদের ‘সার্টিফিকেট’-এর পর আরও কোনও বেসরকারি সংস্থার ‘ট্রফি’র প্রয়োজন হয় না। আম জনতা পুজো প্রাঙ্গণে এসে দেখার পর তাঁদের নজরেই হোক শ্রেষ্ঠত্বের বিচার। বাকি অন্য কোনও সংস্থার ‘বিচারের বাণী’ শুধুই প্রচার সর্বস্ব। এমনটাই মনে করছেন পুজো উদ্যোক্তারা।

বেসরকারি সংস্থার পুরস্কারে ‘আমরা-ওরা’ নিয়ে অসন্তোষ উদ্যোক্তাদের
  • ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জনতাই জনার্দন। তাঁদের ‘সার্টিফিকেট’-এর পর আরও কোনও বেসরকারি সংস্থার ‘ট্রফি’র প্রয়োজন হয় না। আম জনতা পুজো প্রাঙ্গণে এসে দেখার পর তাঁদের নজরেই হোক শ্রেষ্ঠত্বের বিচার। বাকি অন্য কোনও সংস্থার ‘বিচারের বাণী’ শুধুই প্রচার সর্বস্ব। এমনটাই মনে করছেন পুজো উদ্যোক্তারা।

Advertisement

ইদানীং সময়কালে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে প্রতিযোগিতার বহর। ছোটো, মাঝারি, বড়ো বাজেটের পুজো প্রাঙ্গণে গেলেই চোখেই পড়বে নানা ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণের বহর। বিভিন্ন ধরনের বেসরকারি সংস্থা দুর্গা পুজো উপলক্ষ্যে প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে। আর সেটা নিয়েই লড়াই তুঙ্গে। কিন্তু পুজো উদ্যোক্তারা বলছেন, ধূপকাঠি, রং, ওষুধ, জলের পাইপ, বৈদ্যুতিন তারসহ নানা ধরনের বেসিরকারি সংস্থা প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে। আর সেটা নিয়েই হরেকরকম কথা চলাচালি। এরকমই একটি গল্প শোনালেন একডালিয়া এভারগ্রিন পুজো কমিটির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মহাপাত্র। তাঁর কথায়, একটি বেসরকারি সংস্থা ফর্ম নিয়ে আমাদের পুজো কমিটিতে এসে হাজির। ৩০০ টাকা দিয়ে প্রতিযোগিতায় নাম লেখাতে হবে বলে প্রস্তাব দেয়। কিন্তু ওদের স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছি, আমরা কোনও প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করি না। আমাদের কোনও পুরস্কারের দরকার নেই। পুজোমণ্ডপে আসা জনতার আমাদের কাছে শ্রেষ্ঠ বিচারক। আবার হাতিবাগান সর্বজনীনের পুজো উদ্যোক্তা তথা ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের সহসভাপতি শাশ্বত বসু বলেন, পুজোর পুরস্কার সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের কাছে অনেক খবর আসে। তবে এটা লক্ষ করেছি, বেশকিছু বেসরকারি সংস্থা বড়ো পুজো কমিটিগুলির কাছে যাওয়ার সাহস পায় না। ওরা ছোটো পুজো কমিটিগুলিকেই টার্গেট করে। কারণ বিগ বাজেটের পুজোর সঙ্গে ছোটো ও মাঝারি বাজেটের পুজোগুলির অসম লড়াই আছে। ফলে কেউ কেউ যখন পুরস্কার পাওয়ার দিকে ঝোঁকে তখন ওই বেসরকারি সংস্থার প্রতিযোগিতার আবেদনে সাড়া দিয়ে দেয়।
একাধিক পুজো উদ্যোক্তারা বলছেন, কোন নেতার পুজো কিংবা কত বড়ো বাজেটের পুজো সেটা যেন বেসরকারি সংস্থার মার্কশিটে না থাকে। বিচারকের বিচার হোক শিল্প-নৈপুণ্য সৃষ্টির দিকে তাকিয়ে। কোথাও যেন ‘আমরা-ওরা’ না থাকে। আর এই আবহে কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন পুজো কমিটি ফেসবুকে ‘বিশেষ ঘোষণা’ আকারে লিখেছে, প্রতিযোগিতার নামে নোংরা রাজনীতি ও অদক্ষ কিছু মানুষের বিচারক সেজে ভিআইপি সুবিধা নেওয়ার প্রতিবাদে আমরা একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা বিশেষভাবে ঘোষণা করছি যে আগামী বছর আমরা একটি সংস্থা (রং প্রস্তুতকারক) ছাড়া আর কোনও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করব না। আবার রাজডাঙা নব উদয় সংঘ সামাজিক মাধ্যমে লিখেছে, আমরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে উল্লেখ করতে বাধ্য হচ্ছি যে এক রং প্রস্তুতকারক সংস্থার পক্ষ থেকে পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে যেভাবে অনৈতিক ও পক্ষপাতদুষ্ট কার্যকলাপ পরিচালিত হয়েছে তা অগ্রহণযোগ্য। আমরা কোনও অবস্থাতেই অন্যায়ের সঙ্গে আপস করব না। ন্যায়, স্বচ্ছতা ও মর্যাদার পথে আমাদের অবস্থান সর্বদা অটল থাকবে। ফলে আগামীতে যেসব বেসরকারি সংস্থা পুরস্কার দেবে তাদের বিচারের মাপকাঠি যেন ভালো মণ্ডপ, প্রতিমা, পরিবেশ হয়, সেটাই তারা নজর রাখুক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ