নিউ ইয়র্ক: বাংলাদেশে হিন্দু সহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জীবন বিপন্ন! তাঁদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়ে আসছে। মহম্মদ ইউনুসের জমানা নিয়ে এমনই রিপোর্ট প্রকাশ করল আমেরিকার আন্তর্জাতিক স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)। মার্কিন প্রশাসনের এই সংস্থাটি তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে জানিয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা যতই মুখে ধর্মীয় স্বাধীনতার গুরুত্ব ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নিজেদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে চরম আতঙ্কিত। তাঁরা প্রকাশ্যে ধর্মবিশ্বাস নিয়ে আলোচনা করতেও ভয় পাচ্ছেন। শেখ হাসিনার দেশত্যাগ ও ইউনুসের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশে হিন্দু, খ্রিস্টান, সুফি, আহমাদিয়া সম্প্রদায়ের মানুষের উপর বারবার হামলার অভিযোগ উঠেছে। ধ্বংস করা হয়েছে একাধিক মন্দির, মাজার। যদিও ইউনুস সরকার বরাবরই দাবি করে এসেছে, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা সুরক্ষিত। ভারত এই নিয়ে ভুয়ো তথ্য প্রচার করছে। এবার ট্রাম্প সরকারের অধীনস্থ সংস্থার রিপোর্টও হিন্দু সহ সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল। যদিও এই নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার মুখে কুলুপ এঁটেছে। জামাত-ই-ইসলামি দাবি করেছে, তাদের নিয়ে এই রিপোর্টে যা লেখা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন।
ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশনের প্রতিনিধিদের একটি দল চলতি বছরের মে মাসে বাংলাদেশ সফরে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশের সরকারি কর্তা-আধিকারিকদের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন ওই প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। সিনিয়র পলিসি অ্যানালিস্ট সীমা হাসানের নেতৃত্বে ‘ফ্যাক্টশিট বাংলাদেশ’ নামে ওই রিপোর্টের ছত্রে ছত্রে উঠে এসেছে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিপীড়ণ, মত প্রকাশের অধিকার কেড়ে নেওয়ার মতো বিষয়গুলি। ইউনুস সরকারের আমলে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দ বাদ দেওয়া, মহিলা বিষয়ক সংস্কার কমিশন নিয়ে ধর্মীয় সংগঠনগুলির বাধাদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হিন্দুদের উপর আক্রমণের পাল্টা প্রতিবাদ করায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে চিন্ময় কৃষ্ণদাসকে গ্রেপ্তার, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ধুয়ো তুলে মৌলবাদীদের আক্রমণ, চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে আদিবাসীদের উপর অত্যাচারের মতো বিষয়গুলিও ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। রয়েছে মুসলিম মহিলাদের প্রতিনিয়ত মৌলবাদীদের চোখরাঙানির শিকার হওয়ার কথা। মার্কিন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিভিন্ন সংগঠন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলির আশঙ্কা করছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র বাংলাদেশে ধর্মীয় নিপীড়ণের মাত্রা আরও বাড়তে পারে। ইউনুস সরকার পুলিস মোতায়েন করা ছাড়া ধর্মীয় হিংসা ঠেকাতে এখনও কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ করতে পারেনি।