নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: এক সময় বিঘার পর বিঘা জমিতে চাষ হতো হরিণাখুরি ধান। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর, পাথরপ্রতিমা ইত্যাদি অঞ্চলে এই চাষের প্রচলন ছিল। কিন্তু কালের নিয়মে এক সময় সেই ধান হারিয়ে যায়। প্রায় অবলুপ্ত হয়ে পড়ে। বর্তমানে বিচ্ছিন্নভাবে কোনও কোনও কৃষক অল্প জমিতে এই ধান চাষ করে বাঁচিয়ে রেখেছে ধানের এই প্রজাতি। এবার এই ধান চাষে কৃষকদের উৎসাহ দিতে উদ্যোগী হল রাজ্য কৃষিদপ্তর। বিলুপ্তপ্রায় ধান চাষে উৎসাহ দিতে এ বছর তারা ১৫ হেক্টর জমিতে হরিণাখুরি ধানের চাষ করতে বলেছে কৃষকদের। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই ধানের চাল মোটা হলেও ভাত সুস্বাদু এবং বিচালি অন্যান্য জাতের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হয়। হরিণাখুরি ধানের গাছ লম্বা ও শক্তিশালী, যা রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রতিরোধ করতে সক্ষম। সাগর, পাথরপ্রতিমা, নামখানা এবং কাকদ্বীপ ব্লকে এই ধানের চাষ করার কথা বলা হয়েছে। বাছাই করা কয়েকজন কৃষককে বিনামূল্যে ৩০০ কেজি এই ধানের বীজ দেওয়া হবে। প্রতি হেক্টর জমিতে রোপণ করা হবে ২০ কেজি বীজ। সরকারের এই উদ্যোগে খুশি সুন্দরবনের প্রবীণ কৃষকরা। সুখদেব নাথ নামে সাগরের এক কৃষক বলেন, ‘এই ধানের চাষ এখন সেভাবে দেখা যায় না। আমরা কিছু চাষি অল্প করে চাষ করে বাঁচিয়ে রেখেছি। সরকার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা অবশ্যই সাধুবাদযোগ্য।’ কৃষি দপ্তরের বক্তব্য, ২০২৫-২৬ সালের খরিফ মরশুমে বেশ কিছু দেশীয় সুগন্ধী চাল চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে চারটি ব্লকে এই হরিণাখুরি ধান চাষের জন্য জেলা প্রশাসনকে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। হরিণাখুরি ছাড়াও জয়নগরের মোয়ার মূল উপাদান কনকচূড় ধানের চাষ হবে আরও চারটি ব্লকে। সেগুলি হল জয়নগর ১, ২ এবং মথুরাপুর ১ ও ২ ব্লক।



