Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে ঝামেলায় খুনের দায়ে ১১ জনের কারাদণ্ড

১১বছর আগে পুরুলিয়া জেলার সাঁওতালডিহি থানার ভবানীপুর গ্রামে সরস্বতী প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের ঝামেলা হয়েছিল। সেই ঝামেলাকে কেন্দ্র করে ওদিন এক ব্যক্তি খুন হন।

প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে ঝামেলায় খুনের দায়ে ১১ জনের কারাদণ্ড
  • ২৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: ১১বছর আগে পুরুলিয়া জেলার সাঁওতালডিহি থানার ভবানীপুর গ্রামে সরস্বতী প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের ঝামেলা হয়েছিল। সেই ঝামেলাকে কেন্দ্র করে ওদিন এক ব্যক্তি খুন হন। এবং অপর এক ব্যক্তির একটি চোখ নষ্ট করে দেওয়া হয়। সেই ঘটনায় মোট ১১ জনকে গত বুধবার রঘুনাথপুর মহকুমা আদালত দোষী সাব্যস্ত করে এবং বৃহস্পতিবার সাজা ঘোষণা হয়। এদিন রঘুনাথপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক প্রিয়জিৎ চট্টোপাধ্যায় সাজা ঘোষণা করেন। বিভিন্ন ধারায় ১১ জন অভিযুক্তের মধ্যে পাঁচজনকে সাত বছর, তিনজনকে পাঁচ বছর এবং অপর তিনজনকে দু’বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের জরিমানাও করা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে মহকুমা এলাকায় শোরগোল পড়ে যায় এদিন।

Advertisement

পুলিসের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, ২০১৪ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ভবানীপুর গ্রামে সরস্বতী প্রতিমার বিসর্জন ছিল। গ্রামের একটি পাড়া দিয়ে প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার সময় কিছু ব্যক্তি পথ আটকে বাধা দেয়। রীতিমতো তারা অস্ত্র হাতে নিয়ে পথ আটকায়। ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায়। পরে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ঝামেলা হয়। ঝামেলা চলার সময় এক পক্ষের লোকেরা গণপতি মাহাতর(৫০) উপর হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, এই হামলার জেরে শক্তিপদ মাহাতর একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়। সেইসঙ্গে প্রায় ১০ জনকে মারধর করা হয়।
ঘটনার দিনে মৃতের ছেলে উমেশ মাহাত সাঁওতালডিহি থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হয়। ওদিনই পুলিস ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৩২৩, ৩২৬, ৩০২ এর মতো একাধিক আইপিসি ধারায় মামলা রুজু করে। তদন্ত শুরু হয়। পুলিস একে, একে সব অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। আসামিরা যাতে ছাড়া না পায় তার জন্য তিন মাসের মধ্যে ২০১৪ সালের ৯মে পুলিস এই মামলার চার্জশিট পেশ করে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে অভিযুক্তরা একে একে ছাড়া পেয়ে যায়। ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মোট ১৯ জন সাক্ষ্য দেয়। কিন্তু করোনার জন্য শুনানি পিছিয়ে যায়। ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শেষ সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয় এই মামলার।
সরকারি আইনজীবী অমলেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই মামলায় একাধিক ধারায় দোষীদের সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। পাঁচজনকে সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ছ’মাস সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনজনকে পাঁচবছর এবং ছ’হাজার টাকা অনাদায়ে তিনমাস জেল এবং বাকি তিনজনকে দু’বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘটনায় তৎকালীন সাব ইন্সপেক্টর স্বপনকুমার গুপ্ত তদন্ত করেছিলেন।
অভিযোগকারী উমেশ মাহাত বলেন, আমরা এই রায়ে খুশি নই। দোষীদের ফাঁসি অথবা যাবজ্জীবন সাজার দাবি জানিয়েছিলাম। আমরা উচ্চ আদালতে যাব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ