নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: দীর্ঘ টানাপড়েনের পর আজ পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচন। তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি শাসক দলের অন্দরেও তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে। তৃণমূল সূত্রের খবর, বিধায়ক নির্মল ঘোষকে দলনেত্রীর স্থির করা কাউন্সিলারকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখানেই শুরু হয়েছে জল্পনা। চেয়ারম্যান হিসেবে কে শপথ নেবেন? পুরসভার চেয়ারম্যান পারিষদ (পূর্ত) সোমনাথ দে, নাকি গোষ্ঠী রাজনীতির চোরাবালিতে শেষ মুহূর্তে অন্য কেউ বাজিমাত করবেন?
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পানিহাটি শহরজুড়ে এক বছরের বেশি সময় ধরে অচলাবস্থা চলছে। জমা আবর্জনা, বেহাল রাস্তা, নিকাশি, পথবাতীর সমস্যায় নাজেহাল বাসিন্দারা। এই আবহে গত লোকসভা ভোটের আগে শহরের ৩২ জন তৃণমূল কাউন্সিলার চেয়ারম্যান মলয় রায়ের অপসারণের দাবিতে সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে চিঠি দিয়েছিলেন। বোর্ড মিটিং বন্ধ ছিল।
পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম পানিহাটিতে এসে বৈঠক ডেকে সমস্যা সমাধান করেছিলেন। কিন্তু কয়েক মাস যেতে না যেতেই অমরাবতী মাঠ বিক্রির গুঞ্জনে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। মুখ্যমন্ত্রী নিজ হস্তক্ষেপ করেন। তিনি ওই মাঠ সরকারি ভাবে অধিগ্রহণের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি চেয়ারম্যানকে পদত্যাগের নির্দেশ পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু চেয়ারম্যান মলয় রায় টালাবাহানা শুরু করেন। পুরমন্ত্রী ও মহকুমা শাসকের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েও জল্পনা জিইয়ে রাখেন। গত সোমবার বোর্ড অব কাউন্সিলারের বেঠকে মলয়বাবুর পদত্যাগ গৃহীত হয়। ওইদিন কাউন্সিলারদের চিঠি দিয়ে শুক্রবার দুপুরে নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনের বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কিন্তু পরদিন শহরের ২২ কাউন্সিলার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। ওই কাউন্সিলারদের অনেকেই বিধায়ক ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। শহরের অনেক কাউন্সিলার আবার চিঠিতে সই করেননি। কোনও কোনও কাউন্সিলারের কাছে চিঠি সই করানোর জন্য পাঠানো হয়নি। এই আবহে শহরজুড়ে চেয়ারম্যান নির্বাচন ঘিরে তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
তৃণমূল সূত্রের খবর, চেয়ারম্যান পারিষদ (পূর্ত) সোমনাথ দে’কে চেয়ারম্যান করতে সবুজ সঙ্কেত আগেই দিয়ে রেখেছেন দলনেত্রী। যদিও সোমনাথবাবু সহ শহরের বেশ কয়েক জন কাউন্সিলারকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ভাবে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে অভিযোগ। পানিহাটি জুড়ে গোষ্ঠী রাজনীতি ভয়ঙ্কর জায়গায় গিয়েছে। এই আবহে খোদ বিধায়ক নির্মলবাবুকে দায়িত্ব দিয়ে যদি বিরোধী গোষ্ঠীর সোমনাথবাবুকে চেয়ারম্যান হিসেবে বসানো হয় তা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। নির্মলবাবু বলেন, দলনেত্রী আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। সকাল সাড়ে ১১টায় পুরসভায় দলীয় কাউন্সিলারদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছি। দলের হুইপ বা নির্দেশ আমি সকলকে জানিয়ে দেব। দলীয় নির্দেশ মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন।