


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নিউ গড়িয়া কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটিতে বাড়ির মধ্যে খুন হলেন বৃদ্ধা। শুক্রবার সকালে বিজয়া দাস (৭৯) নামে ওই মহিলাকে সিঁড়ির কাছে হাত–পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। মুখে সেলোটেপ আঁটা ছিল। বৃদ্ধার মাথায় ও মুখে আঘাত রয়েছে। ময়নাতদন্তে জানা গিয়েছে, শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে বৃদ্ধাকে। কমপক্ষে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগে খুন করা হয়েছে তাঁকে। স্বামী প্রশান্ত দাসকে ঘরের মধ্যে খাটের নীচে পাওয়া যায়। আতঙ্কিত প্রশান্তবাবুকে অন্যত্র সরানো হয়েছে। তিনি কথা বলার মতো অবস্থায় এলে জানা যাবে স্ত্রীকে খুন হতে দেখেছেন কি না? আর কতজন তাঁদের বাড়ি ঢুকেছিল। ঘর থেকে খোয়া গিয়েছে সোনার অলঙ্কার, নগদ টাকা ও মোবাইল। লুটের উদ্দেশ্যেই খুন বলে প্রাথমিক তদন্তের পর নিশ্চিত পুলিস। সদ্য কাজে যোগ দেওয়া এক আয়া নিখোঁজ হওয়ায় তার দিকে সন্দেহের তির গোয়েন্দাদের। পঞ্চসায়র থানার পাশাপাশি তদন্তে নেমেছে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। দেখা গিয়েছে, বাড়ির সিসি ক্যামেরার তার কাটা হয়েছে। ইলেকট্রিকের মেইন সুইচ বন্ধ।
হাউজিংয়ে দোতলা বাড়ির একতলায় থাকতেন বৃদ্ধ দম্পতি। ছেলে কর্মসূত্রে মুম্বইতে থাকেন। মেয়ে জার্মানিতে। বাড়িতে প্রতিদিন খাবার হোমডেলিভারি হতো। বৃহস্পতিবার সকালেও হোমডেলিভারি হয়েছিল। তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে শুক্রবার সকালে টেবিলে খাবার পড়ে থাকায়। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বাড়িতে ১৫ বছর কাজ করা পরিচারিকা মধুমিতা হালদার শুক্রবার ভোরবেলা কাজে আসেন। ডাকাডাকির পরেও দরজা খোলেনি কেউ। তিনি খেয়াল করেন, দরজার হাতল বাইরে থেকে টানা রয়েছে। তা দেখে সন্দেহ হয় তাঁর। পাশের এক বৃদ্ধাশ্রমের পরিচারিকা মিনতি সর্দারকে বিষয়টি জানান। মিনতিকে সঙ্গে ঘরে ঢোকেন মধুমিতা। মিনতি জানিয়েছেন, তাঁরা ঢুকে দেখেন সিঁড়ির নীচে হাত–পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে রয়েছেন বৃদ্ধা বিজয়া। মুখে সেলোটেপ। রক্তে ভেসে যাচ্ছে মেঝে। বৃদ্ধার গায়ে গয়না নেই। ঘরে ঢুকে দেখেন, খাটের নীচে পড়ে রয়েছেন বৃদ্ধার স্বামী। মধুমিতা, মৃতার ছেলেকে ফোন করেন। খবর দেওয়া হয় মেয়েকেও। খবর পেয়ে আসে পঞ্চসায়র থানা ও গোয়েন্দা বিভাগ।
তদন্তকারীরা জেনেছেন, মধুমিতা ছাড়াও একজন আয়া ছিলেন। যিনি ছ’মাস কাজ করছিলেন। দিন দশেক হল ওই আয়া ছুটি নিয়ে বাড়ি গিয়েছেন। প্রশান্তবাবুর সম্প্রতি একটি বড় অপারেশন হয়। তাঁকে দেখভালের জন্য ১৭ তারিখ সেন্টার থেকে আয়া রাখা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার বাড়িতে ওই আয়ার উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। শুক্রবার তিনি কাজে না আসায় তার প্রতি সন্দেহ আরও বেড়েছে।
বাড়ির সামনের দরজায় সমস্যা থাকায় সেটি ভিতর থেকে বন্ধ থাকত। পিছনের দরজা ব্যবহার করতেন তাঁরা। ওই দরজা ভাঙা হয়নি। তদন্তকারীরা নিশ্চিত, বাড়ির ভিতর থাকা কেউ দরজা খুলে দিয়েছে দুষ্কৃতীদের। ওই আয়া তার পরিচিত কাউকে নিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। কিংবা দুষ্কৃতী দল রাতে ওই বাড়িতে ঢুকে এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। ছ’দিন আগে যোগ দেওয়া আয়ার জমা দেওয়া আধার সহ তার নথি যাচাই করা হচ্ছে।