Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্ত্রী-মেয়েকে লোহার রড দিয়ে খুনের পর আত্মঘাতী প্রৌঢ়, চাঞ্চল্য

ঘরের মধ্যে বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে স্ত্রী ও মেয়ে।

স্ত্রী-মেয়েকে লোহার রড দিয়ে খুনের পর আত্মঘাতী প্রৌঢ়, চাঞ্চল্য
  • ৩০ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ঘরের মধ্যে বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে স্ত্রী ও মেয়ে। দু’জনেরই মাথায় গভীর ক্ষতচিহ্ন। পাশের ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছে গৃহকর্তার দেহ। 

Advertisement

বৃহস্পতিবার চন্দননগরের কলুপাড়ায় একই বাড়ি থেকে তিনজনের দেহ উদ্ধার হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্তে নেমে পুলিস জানিয়েছে, স্ত্রী ও মেয়েকে খুন করার পর আত্মহত্যা করেছেন বাবলু ঘোষ (৬৪)। স্ত্রী ও মেয়ের নাম যথাক্রমে প্রতিমা ঘোষ (৪৬) ও কৌশালি ঘোষ (১২)। লালবাগান স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত কৌশালি।  
কলুপাড়ায় সরকারি আবাস যোজনার বাড়িতে থাকতেন বাবলু ঘোষ। কাগজের বাক্স তৈরি করার ব্যবসা ছিল তাঁর। তবে তা থেকে বিশেষ আয় ছিল না। সেকারণে বাড়িতে সাট্টার ব্যবসা চালাতেন তিনি। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, এই ব্যবসার জেরে বাজারে প্রচুর টাকা ঋণ হয়েছিল তাঁর। সাট্টার বোর্ড চালানোর অভিযোগে আগে একবার চন্দননগর পুলিস গ্রেপ্তার করেছিল তাঁকে। 
পুলিস সূত্রে খবর, বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত তিনজনকে কেউ না কেউ দেখতে পেয়েছিলেন। তবে সন্ধ্যার পর থেকে দরজা, জানালা বন্ধ। রাতে একজন এসে দরজায় ধাক্কা দিলে সাড়া দেননি তাঁরা। তিনি জানালা ফাঁক করে দেখতে পান, মা ও মেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় পড়ে রয়েছেন। পাশের ঘরে বাবলুকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। তিনিই পুলিসকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে চন্দননগর থানার পুলিস। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয় একটি রক্তমাখা লোহার রড। তিনজনকেই চন্দননগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। প্রতিমার দাদা হারাধন বিশ্বাসের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু হয়েছে। দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্টে ইঙ্গিত, নাবালিকা ও তাঁর মায়ের মাথায় ভারী কোনও বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। অন্যদিকে, গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন বাবলু। পুলিসের অনুমান, স্ত্রী ও মেয়েকে কিছু খাইয়ে বেহুঁশ করেন গৃহকর্তা। এরপর মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়।
বাজারে ঋণের জন্যই এই ঘটনা বলে পুলিসের অনুমান। প্রাথমিক তদন্তে পুলিস জেনেছে, জনৈক মধুসূদন অধিকারীর কাছ থেকে বাবলু ছয় লক্ষ টাকা ধার করেছিলেন। তা থেকে ২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে মেয়ের গয়না বানান। পরে কিছু টাকা শোধ করেন। বাকি টাকা সাট্টার ব্যবসায় লাগিয়েছিলেন তিনি। সেই ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়েছিলেন বৃদ্ধ। তা থেকে মুক্তি পেতেই এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাবলু।
চন্দননগর কমিশনারেটের তরফে জানানো হয়েছে, এলাকায় সাট্টার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। আগেও একবার বাবলু ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কলুপুকুরে সাট্টার ঠেক চলে বলে অভিযোগ, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চন্দনগরের মেয়র রাম চক্রবর্তী বলেন, ‘শহরে সাট্টার ব্যবসা একেবারেই বাঞ্ছনীয় নয়। পুলিস ব্যবস্থা নিক। কলুপুকুরের ঘটনা দুঃখজনক’।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ