Bartaman Logo
২৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘ডিজিটাল প্রহরী’র পরামর্শে ৩৫ লক্ষ টাকা বাঁচল বেহালার প্রবীণ দম্পতির

১৮ ফেব্রুয়ারি। বুধবার সবে দুপুরের রান্না শেষ করে খেতে বসবেন প্রবীণ যুগল। ৬০ বছরের গণ্ডি টপকেছেন দুজনেই। তাঁদের একমাত্র ছেলে থাকেন মুম্বইতে।

‘ডিজিটাল প্রহরী’র পরামর্শে ৩৫ লক্ষ টাকা বাঁচল বেহালার প্রবীণ দম্পতির
  • ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১৮ ফেব্রুয়ারি। বুধবার সবে দুপুরের রান্না শেষ করে খেতে বসবেন প্রবীণ যুগল। ৬০ বছরের গণ্ডি টপকেছেন দুজনেই। তাঁদের একমাত্র ছেলে থাকেন মুম্বইতে। তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কাজ করেন তিনি। প্রতিদিন সকাল আর রাতে ফোনেই বয়স্ক বাবা-মায়ের খোঁজ নেন যুবক। কিন্তু, বুধবার সকালে কাজের চাপে সেই ফোন আসেনি। দুপুরে আচমকাই বেজে উঠল বৃদ্ধার মোবাইল। ভাবলেন ছেলে। তড়িঘড়িতে নম্বরটা আর দেখেননি। ফোনটা ধরতেই অন্য পার থেকে বৃদ্ধার ছেলের নাম নিয়ে একজন বলে উঠলেন, ‘আপনার ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মুম্বইয়ের থানে পুলিশ স্টেশনের লক-আপে রয়েছে ও।’

Advertisement

খাওয়া-দাওয়া তখন মাথায় উঠেছে বেহালার বাসিন্দা দুই প্রবীণ দম্পতির। ফোনালাপে তাঁরা আরও যা যা জানতে পারেন, তা যে কেউ শুনলেই চমকে উঠবেন। আগ্নেয়াস্ত্র পাচার করতে গিয়ে পাকড়াও হয়েছেন প্রবীণ দম্পতির ছেলে। শুধু কথায় যদি বিশ্বাস না-হয়, তার জন্য বৃদ্ধার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে সেই আগ্নেয়াস্ত্রর ছবি, এফআইআরের কপি, গ্রেপ্তারির মেমোসহ একাধিক তথ্য পাঠিয়ে দেয় সেই লোকটি। একইসঙ্গে, ছেলের জামিনের জন্য দাবি করা হয় ৩৫ লক্ষ টাকা। কিন্তু এত টাকা কেন? বলা হয়, ‘আগ্নেয়াস্ত্র মামলায় জামিন পাওয়া অত্যন্ত দুষ্কর। তাই বড়ো আইনজীবীর প্রয়োজন। আপনি টাকা পাঠিয়ে দিন। আমরা আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করে নিচ্ছি।’ কিন্তু, ছেলে তো তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কাজ করেন। খামোকা আগ্নেয়াস্ত্র পাচার করতে যাবেন কেন তিনি? 
সন্দেহ হয় প্রবীণ যুগলের। তাঁদের হাতেই কাছেই ছিল সংবাদপত্র। তাতে উল্লেখ রয়েছে লালবাজারের সাইবার বিভাগের ‘ডিজিটাল প্রহরী’র টোল-ফ্রি নম্বরটা। সন্দেহের বশেই সেখানে ফোন করে সাহায্য চান প্রবীণ দম্পতিরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৃদ্ধের দাবি, দ্রুত ফোন তোলে লালবাজারের হেল্প ডেস্ক। কথা হয় দু-পক্ষের। গোটা গল্পটা শুনেই সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে জানিয়ে দেয় ডিজিটাল প্রহরী। এমনকি, ফোন চলাকালীন প্রবীণ দম্পতিকে তাঁদের ছেলের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেয় লালবাজারই। তাতেই চিন্তামুক্ত হন যুগল। প্রায় আধঘণ্টা ধরে ডিজিটাল প্রহরী সহায়তা দেয় প্রবীণ দম্পতিকে। লালবাজারের তরফে তাঁদের জানানো হয়, এটি ভুয়ো ফোন। ছেলের গ্রেপ্তারির নামে ভয় দেখিয়ে টাকা অনলাইনে লুট করার ফন্দি এঁটেছিল জনৈক কলার। ভুয়ো ফোন আসা নম্বরটিকে ব্লক করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে লালবাজারের সাইবার শাখা। একইসঙ্গে, কোন আইএমইআই নম্বর থেকে ফোনটি এসেছিল, তারও খোঁজ চালানো হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে, কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার বলেন, ‘এটাই আমাদের সাফল্য। ডিজিটাল প্রহরীর সুবাদে, বিরাট জালিয়াতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন বেহালার ওই প্রবীণ দম্পতি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ