নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বৃহস্পতিবার সকালে এগরা সারদা শশীভূষণ মহাবিদ্যালয়ে কেমিস্ট্রি বিভাগের রিসার্চ ল্যাবে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই কোটি টাকার সম্পত্তি। এদিন সকাল ৭ টা ১৫ মিনিট নাগাদ কলেজের তিনতলার জানালা থেকে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। ওই ঘটনা জানাজানি হতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। এগরা থেকে দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দমকল কর্মীরা একটি ইঞ্জিনের সাহায্যে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে কাঁথি থেকে আরও একটি ইঞ্জিন আনা হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা বাদে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ততক্ষণে রিসার্চ ল্যাবের দামি যন্ত্রপাতি, কেমিক্যাল ও আসবাবপত্র সহ প্রায় দু’কোটি টাকার সম্পত্তি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
কলেজ পরিচালন কমিটির সভাপতি তথা বিধায়ক তরুণকুমার মাইতি, কমিটির সরকারি প্রতিনিধি বাদলঅশ্রু ঘাঁটা, কাউন্সিলার জয়ন্ত সাউ প্রমুখ ঘটনাস্থলে যান। পরিচালন কমিটির সভাপতি বলেন, রিসার্চ ল্যাবে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও ভবনেরও ক্ষতি হয়েছে। কীভাবে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পুড়ে যাওয়া জায়গাটি ঘিরে রাখার জন্য পুলিসকে বলেছি। পুলিস সুপার এবং থানার ওসির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে।বৃহস্পতিবার সকাল সওয়া ৭টা নাগাদ স্থানীয় মাঠে খেলতে আসা ছেলেরাই প্রথম জানালা দিয়ে ধোঁয়া বের হতে দেখে। এই মুহূর্তে কলেজে গ্রীষ্মের ছুটি চলছে। তাই বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সব কলেজ বন্ধ। কলেজ বিল্ডিংয়ের তিনতলায় ওই ল্যাবে পৌঁছনো গেলেও সেখানকার চাবি সময়মতো পাওয়া যায়নি। চাবি খুঁজে আনতে আরও কিছুটা সময় কেটে যায়। তারপর চাবি জোগাড় করে গেট খোলা হয়। ততক্ষণে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে থাকে। জানালা দিয়ে আগুনের গোলা বের হয়ে আসছিল।
অগ্নিকাণ্ডের কিছুক্ষণের মধ্যেই এগরা দমকল কেন্দ্র থেকে একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। স্থানীয়রাও আগুন নেভানোর কাজে সাহায্য করেন। খবর পেয়ে কলেজের অন্যান্য অধ্যাপক এবং পরিচালন কমিটির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। কেমিস্ট্রির রিসার্চ ল্যাবের উপরেই প্রাণিবিদ্যার গবেষণাগার ছিল। যদিও সেটি সুরক্ষিত রয়েছে।
আগুন লাগার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। রিসার্চ ল্যাবে অনেক রকম কেমিক্যাল থাকে। সেই কেমিক্যাল থেকে আগুন লেগেছে, নাকি শর্টসার্কিটের জেরে আগুন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পরিচালন কমিটি আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধান করতে পুলিসের কাছে ফরেনসিক পরীক্ষার আর্জি জানিয়েছে। কলেজ পরিচালন কমিটির সরকারি প্রতিনিধি বলেন, প্রায় দু’কোটি টাকার সম্পত্তি পুড়ে নষ্ট হয়েছে বলে আমাদের অনুমান। আমাদের কলেজে আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কেমিস্ট্রি ল্যাব এবং ওই বিভাগের রিসার্চ ল্যাব আলাদা। রিসার্চ ল্যাবে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। সেখানে বহু দামি যন্ত্রপাতি ছিল।