নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: স্কুলে স্কুলে স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরি কিংবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষাদানের প্রশ্নে ইতিমধ্যেই কয়েক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে রাজ্য। এবার ডিজিটাল শিক্ষায় এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ব্যবহার করতে চাইছে রাজ্যের স্কুল শিক্ষাদপ্তর। এর ফলে শুধু ত্রুটিহীন শিক্ষাপদ্ধতি নয়, প্রতিটি পড়ুয়ার অগ্রগতির উপর পৃথকভাবে নজর রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছে দপ্তর। পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে রাজ্যের দশটি স্কুলে ক্লিকার বেসড এআই চালিত স্মার্ট লার্নিং অ্যাপের মাধ্যমে পঠনপাঠন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার হাওড়ার দেশবন্ধু বালিকা বিদ্যালয়ে এই নতুন শিক্ষাপদ্ধতি পরিদর্শন করতে আসেন শিক্ষাদপ্তরের কর্তারা।
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) চালিত বিশেষ লার্নিং অ্যাপ এটি। ক্লাসরুমে রোল কল থেকে শুরু করে প্রতিটি চ্যাপ্টার সম্পর্কে পড়ুয়াদের মধ্যে স্পষ্ট ধারণা তৈরি করা, কিংবা ক্লাস টেস্ট— একটিমাত্র অ্যাপের মাধ্যমে করা সম্ভব। এক কথায় শিক্ষক ও পড়ুয়ার মধ্যে সহজ যোগসূত্র স্থাপন। এই পদ্ধতিতে পড়ুয়াদের প্রত্যেকের হাতে থাকছে বিশেষ ধরনের রিমোট বা ক্লিকার। এটি ক্লিক করে তারা সহজেই বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে। কোন পড়ুয়া, কত তাড়াতাড়ি উত্তর দিতে পারছে, কে ক্লাসের পড়ায় তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে পড়ছে, সবটাই এই এআই নির্ভর লার্নিং অ্যাপের মাধ্যমে বুঝতে পারবেন শিক্ষকরা। একই অ্যাপের মাধ্যমে যেমন আধুনিক পদ্ধতিতে শিক্ষাদান করা যাবে, পাশাপাশি পরীক্ষাও নেওয়া যাবে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। কোন পড়ুয়ার উপর কতটা বাড়তি নজর দিতে হবে, তাও স্পষ্ট হবে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছে। রাজ্যের স্কুল শিক্ষাকে আরও উন্নত করে তুলতে দশটি স্কুলে স্মার্ট লার্নিং অ্যাপের পাইলট প্রজেক্ট শুরু করেছে রাজ্য। হাওড়ার দেশবন্ধু বালিকা বিদ্যালয় ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাইস্কুল, হিন্দু স্কুল, হেয়ার স্কুল, বেথুন কলেজিয়েট স্কুল, যাদবপুর বিদ্যাপীঠ, যোধপুর পার্ক বয়েজ ও গার্লস, নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন ও ভবতারিণী মণ্ডল ইংলিশ মিডিয়াম ইন্টিগ্রেটেড স্কুল।
বৃহস্পতিবার হাওড়া দেশবন্ধু বালিকা বিদ্যালয়ে পাইলট প্রজেক্টের ক্লাস দেখতে আসেন শিক্ষাদপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি বিনোদ কুমার, রাজ্যের প্রকল্প পরিচালক শুভ্র চক্রবর্তী, মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের রাজ্য কো-অর্ডিনেটর দেবস্মিতা চট্টোপাধ্যায় সহ দপ্তরের কর্তারা। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন হাওড়ার জেলাশাসক পি দীপাপ্রিয়া সহ জেলা স্কুল শিক্ষাদপ্তরের আধিকারিকরা। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা কুসুম ভট্টাচার্য বলেন, ‘এআই চালিত স্মার্ট লার্নিং অ্যাপের মাধ্যমে পড়াশোনার প্রতি ছাত্রীদের উৎসাহ বাড়ছে। পাশাপাশি এতে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া অনেক সহজ হবে। একজন পড়ুয়ার সার্বিক অগ্রগতি ফুটে উঠছে অ্যাপের মাধ্যমে।’ স্কুলের একটি ক্লাসরুমে ইতিমধ্যেই টাচ স্ক্রিন মনিটর বসানো হয়েছে। তার মাধ্যমেই এআই নির্ভর শিক্ষা পদ্ধতিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে পড়ুয়ারা।