Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

প্রাণের শিক্ষা

সকল প্রকার শিক্ষার মধ্যে প্রাণ-সত্তার শিক্ষাই বোধ হয় সর্ব্বাপেক্ষা গুরত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য। অথচ এ জিনিসটিকে খুব কমই গ্রহণ ও অনুসরণ করা হয় একটা সুস্পষ্ট জ্ঞান ও পদ্ধতি ধরে।

প্রাণের শিক্ষা
  • ৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সকল প্রকার শিক্ষার মধ্যে প্রাণ-সত্তার শিক্ষাই বোধ হয় সর্ব্বাপেক্ষা গুরত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য। অথচ এ জিনিসটিকে খুব কমই গ্রহণ ও অনুসরণ করা হয় একটা সুস্পষ্ট জ্ঞান ও পদ্ধতি ধরে। তার কতকগুলি কারণ আছে: প্রথমত, বিষয়টি সম্বন্ধে আমাদের ধারণা অত্যন্ত ব্যামিশ্র। দ্বিতীয়ত, কাজটি অতীব দুরূহ এবং এতে সাফল্যের জন্য চাই সহিষ্ণুতা, অশেষ ধৈর্য আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি। প্রাণিক শিক্ষার দুটি প্রধান দিক। দুটির প্রকৃতি এবং লক্ষ্য অনেক তফাৎ, কিন্তু দুটিই সমান মূল্যবান। প্রথম ধাপ হল ইন্দ্রিয়গুলির পুষ্টি সাধন এবং ক্রমে তার উপর কর্ত্তৃত্ব অর্জন, শেষে তার রূপান্তর সাধন।

Advertisement

যে সমস্ত বিষয়ে শিক্ষকের প্রথমেই যত্নবান হওয়া উচিত তাদের মধ্যে ইন্দ্রিয় সমূহের পূর্ণ উৎকর্ষতাসাধনই প্রধান। কারণ ইন্দ্রিয়গুলিই চিন্তার রূপদাতা। ইন্দ্রিয়ানুভবের জন্য যে দুইটি বস্তুর প্রয়োজন— তা হল যথার্থতা ও সংবেদনশীলতা। ইন্দ্রিয়গুলি, তাদের যাথার্থ্য এবং সংবেদনশীলতার জন্য নির্ভর করে স্নায়ুমণ্ডলীর অবাধ ক্রিয়ার উপর। এই স্নায়ুমণ্ডলী হল ইন্দ্রিয়গুলির সংবাদ প্রবাহের পথ স্বরূপ। মন এদের কাছ থেকে নিষ্ক্রিয়ভাবে সব কিছু গ্রহণ করে। 
স্নায়ুমণ্ডলীর ক্রিয়াবলীর ফলে যে সব বিকৃতি ঘটে, তাদের উৎপত্তি হয় স্নায়ু পথে আবেগ প্রসূত কোন প্রকার বিক্ষোভের দ্বারা। এর একমাত্র প্রতিকার হল শান্ত থাকার অভ্যাস ও স্নায়ুগুলির অভ্যাসগত দৃঢ়তা বজায় রাখা। এটা সিদ্ধ হতে পারে—‘নাড়ী শুদ্ধি’ বা স্নায়ু পরিশুদ্ধির দ্বারা। এর দ্বারা মানব দেহে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়, ও আভ্যন্তরীণ সমস্ত প্রক্রিয়াগুলির মধ্যে একটা সুপ্রতিষ্ঠিত শান্তি আসে এবং মন পরিশুদ্ধ হয়। 
কিন্তু তুমি ইন্দ্রিয়ানুভবের মাধ্যমেই সবকিছু শিক্ষা কর: দৃষ্টির দ্বারা, পর্য্যবেক্ষণ দ্বারা, শ্রবণের দ্বারা। বিদ্যালয়ে যে শিক্ষালাভ কর তা তোমার ইন্দ্রিয়ানুভবকে উন্নত করে, অধ্যয়নের দ্বারা তোমার এই অনুভব বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। মন ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে সবকিছু গ্রহণ করে তাই এই ইন্দ্রিয়গুলির শিক্ষাই মানুষের সাধারণ শিক্ষার সহায়ক হয়। যদি তুমি ভালভাবে, সঠিকভাবে ও নিখুঁতভাবে দেখতে শেখ, যদি সম্যকভাবে শুনতে শেখ, যদি স্পর্শের মাধ্যমে বস্তুর প্রকৃতি সম্বন্ধে জানতে শেখ আর ঘ্রাণেন্দ্রিয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন গন্ধের মধ্যে পার্থক্য করতে শেখ, তাহলে তাই হবে তোমার শিক্ষার খুব শক্তিশালী উপায়।
বেশ, অনেকগুলো গন্ধ আছে যাদের পরস্পরের মধ্যে সমন্বয় সম্ভব নয়। যদি তুমি তাদের একত্র কর তাহলে যা উদ্ভুত হয় তা বিরক্তি উৎপাদন করে, তার মধ্যে কোন সৌষম্য থাকে না বা কোন ঐক্য থাকে না। কিন্তু তুমি যদি ঘ্রাণেন্দ্রিয়ের উৎকর্ষ সাধন কর তাহলে যখন তুমি কোনও একটি গন্ধ পাবে, তখন তুমি যথাযথ ভাবে জানতে পারবে যে আর কোন্‌ কোন্‌ রকম গন্ধ তার সঙ্গে মিলতে পারবে। আর যে সমস্ত বস্তুগুলি একত্রিত হওয়ার জন্য তৈরী সেগুলিকে কাছাকাছি আনতে সমর্থ হবে। বর্ণ সম্বন্ধেও সেই একই কথা। বর্ণ সম্বন্ধে শিক্ষার ক্ষেত্র অপরিসীম—বর্ণের বিশদ শিক্ষা ও তার জটিলতা—উভয় বিষয়েই।
শ্রীঅরবিন্দ ও শ্রীমায়ের ‘নবচেতনার উন্মেষে নতুন শিক্ষাধারা’ থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ