নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: মাত্র ছ’মাসের মধ্যে ৩ লক্ষ ৪০ হাজার ফিল্ড ইন্সপেকশন করে গোটা রাজ্যে নজির গড়ল পূর্ব মেদিনীপুর। দ্বিতীয় স্থানে থাকা নদীয়া জেলা প্রশাসন ওই সময়ে ১ লক্ষ ৭৭ হাজার ফিল্ড ইন্সপেকশন করেছে। যে কোনও সরকারি কাজে নজরদারি একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সরকারি প্রকল্প রূপায়ণের সময় কাজে গতি আনা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ফিল্ড ইন্সপেকশন প্রয়োজন। গত ছ’মাস আগে রাজ্য সরকার ফিল্ড ইন্সপেকশন সংক্রান্ত একটি অ্যাপস চালু করে। তাতে কোন জেলা কত সংখ্যক ফিল্ড ইন্সপেকশন করল সেটা এন্ট্রি করে একটা পারফরম্যান্স যাচাই করা যাবে। সেক্ষেত্রে সবার শীর্ষে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর। দ্বিতীয় স্থানে নদীয়া এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে কোচবিহার। জেলাশাসক থেকে অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমা শাসক, বিডিওরা ইন্সপেকশনে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়াও প্রতিটি লাইন ডিপার্টমেন্ট অর্থাৎ পূর্ত, জনস্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ বণ্টন, সেচ, কৃষি সহ আরও দপ্তরের অফিসার, ইঞ্জিনিয়ার এবং কর্মীরা ইন্সপেকশন করছেন।
১০০ দিনের কাজ বন্ধ হওয়ার পর গ্রামীণ এলাকা উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ পঞ্চদশ অর্থ কমিশন। কমিশনের টাকায় গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদের মাধ্যমে উন্নয়ন হয়। পরিকল্পনা খাতে এবং পরিকল্পনা বহির্ভূতখাতে ওই টাকা খরচ করে গ্রামীণ এলাকায় পানীয় জল, রাস্তাঘাট, আলো, ক্লাসরুম, ড্রেন সহ নানা ক্ষেত্রে কাজ হয়। ২০২৪-’২৫আর্থিক বছরে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের ৯১শতাংশ টাকা খরচ হয়েছে এই জেলায়। এক বছরে মোট ২৬১ কোটি টাকা খরচ করে পারফরম্যান্সের নিরিখে রাজ্যের মধ্যে প্রথম স্থানে পূর্ব মেদিনীপুর। বাংলা সহায়তা কেন্দ্রে পারফরম্যান্সের নিরিখেও গোটা রাজ্যের মধ্যে সবার শীর্ষে এই জেলা। গত এক মাসে এই জেলায় শুধুমাত্র বাংলা সহায়তা কেন্দ্রের(বিএসকে) মাধ্যমে ১৪কোটি ৮৭লক্ষ ৩৮হাজার ৭৪৩টাকা লেনদেন হয়েছে। মোট ৬লক্ষ ৫৫হাজার ২৩৬জনকে পরিষেবা দেওয়া হয়েছে।
ভূমি কিংবা পরিবহণ সহ সরকারি নানা কাজে এসে সাধারণ মানুষ যাতে দালাল নির্ভর না হয়, সেই জন্য এই জেলায় আগে থেকেই বাংলা সহায়তা কেন্দ্রের উপর জোর দেওয়া হয়। তাতেই বাংলা সহায়তা কেন্দ্রের পারফরম্যান্সে সাফল্য এসেছে।
প্রশাসনিকস্তরে নিয়মিত নজরদারির ফলে এই জেলায় একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে পারফরম্যান্সের নিরিখে রাজ্যের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে। আবাস যোজনায় ধারাবাহিক ভিজিটের মাধ্যমে প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ায় প্রায় প্রত্যেকে বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেছে। ধারাবাহিকভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাগাদা দেওয়ার কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। একইভাবে ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের মাধ্যমে রাস্তা, আলো, নিকাশি সহ নানাবিধ কাজে ধারাবাহিক তদারকি এবং নজরদারি থাকায় কাজে গতি থাকছে। তাছাড়া গুণগত মানও বজায় থাকছে।
জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী বলেন, ফিল্ড ইন্সপেকশন আমরা রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি করেছি। সরকারি কাজে নজরদারি বাড়ানোর ফলে কাজে গতি বজায় থাকে। ঠিকাদার সংস্থা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সচেষ্ট থাকে। কাজের গুণগত মানও বজায় থাকে। আবাসেও আমরা অনেক ফিল্ড ইন্সপেকশন করেছি।