


শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: এক বছরে ইটভাটা থেকে সাড়ে ১০কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা ভূমিদপ্তর। রাজ্যে ইটভাটা থেকে এক বছরে মোট ৩০কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। কেবলমাত্র পূর্ব মেদিনীপুর তার এক-তৃতীয়াংশ রেভিনিউ আদায় করে নিয়েছে। বছরের পর বছর ইটভাটা মালিকদের একাংশের মধ্যে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা ছিল প্রবল। যেকারণে টার্গেট অনুযায়ী রেভিনিউ সংগ্রহ হতো না। ফাঁকিবাজ ভাটা মালিকদের ‘টাইট’ দিতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করে জেলা ভূমিদপ্তর। নোটিস পাঠানো, ভাটা সিল এবং এফআইআরের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতেই হু-হু করে রেভিনিউ ঢুকতে শুরু করে। তাতেই ইটভাটা থেকে বিপুল রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ইটভাটার সংখ্যা সাড়ে চারশো। দক্ষিণ ২৪পরগনা ও মুর্শিদাবাদ জেলার পর ইটভাটার সংখ্যার নিরিখে তৃতীয় স্থানে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর। এই জেলায় মহিষাদল, চণ্ডীপুর, নন্দকুমার, নন্দীগ্রাম-১ ও ২, ময়না ও ভগবানপুর-১ ব্লকে ইটভাটার সংখ্যা বেশি। রূপনারায়ণ, হলদি, হুগলি, কেলেঘাই ও চণ্ডীয়া নদীর ধার বরাবর একচেটিয়া ইটভাটা গজিয়ে উঠেছে। ভাটা চালানোর জন্য ভূমিদপ্তরকে নির্ধারিত খাজনা দিতে হয়। কিন্তু, বেশকিছু ইটভাটা মালিক সরকারি কোষাগারে টাকা না দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রত্যেক ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার অফিসারকে নির্দেশ দেন অতিরিক্ত জেলাশাসক(ভূমি) বৈভব চৌধুরী। সেইমতো প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে একশোর বেশি ইটভাটা মালিককে নোটিস ধরানো হয়। নির্ধারিত তারিখের মধ্যে রাজস্ব না মেটালে ভাটা বন্ধ করা হবে বলে জানানো হয়।
এভাবে দু’মাস আগে একসঙ্গে ৩০টি ইটভাটা সিল করে দেওয়া হয়। সাতদিনের মধ্যে সরকারি কোষাগারে টাকা না দিলে ইটভাটা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে বলে একেবারে লাল নোটিস পৌঁছে যায়। তাতেই টনক নড়ে। জেলা ভূমিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩-’২৪আর্থিক বছরে ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে বকেয়া সাড়ে চার কোটি টাকা এবছরই আদায় করা হয়েছে। এছাড়াও এবছরের নির্ধারিত ছ’কোটি টাকা রেভিনিউ হিসেবে আদায় করা হয়েছে। এভাবেই ২০২৪-’২৫আর্থিক বছরে শুধুমাত্র ভাটা থেকেই সাড়ে ১০কোটি টাকা আদায় হয়েছে। প্রশাসন কড়া না হলে ভাটা থেকে এই হারে রাজস্ব আসত না।
অতিরিক্ত জেলাশাসক(ভূমি) বৈভব চৌধুরী বলেন, আমরা এবছর ইটভাটা থেকে সাড়ে ১০কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছি। ভূমি দপ্তরের মোট সংগৃহীত রেভিনিউ ৩৫কোটি টাকা। জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী বলেন, পূর্ব মেদিনীপুরে ভূমিদপ্তরে দালালরাজ অনেকটাই মুক্ত করা হয়েছে। রেভিনিউ সংগ্রহেও আমরা বেশ ভালো জায়গায় রয়েছি। আগামী দিনেও এটা বজায় রাখতে হবে।