সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: দুর্গাপুরের নিউটন ইয়ংস ক্লাবের কালীপুজোয় এবারের থিম ঝাড়খণ্ডের জৈন মন্দির। তাঁদের পুজো এবার ৫০তম বর্ষ। স্বর্ণজয়ন্তী বর্ষ উপলক্ষ্যে বিশাল মণ্ডপের পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে আন্দামানের ব্রিটিশ আমলের কালাপানি বা সেলুলার জেল। ব্রিটিশ শাসনে ওই জেলে বহু স্বাধীনতা সংগ্রামীকে অকথ্য অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছিল, যা ওই মণ্ডপ চত্বরে অভিনয় করে দেখাবেন শিল্পীরা। আকর্ষণীয় বিশাল মণ্ডপ ও প্রতিমা সহ আলোকসজ্জা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করবে বলে দাবি পুজো উদ্যোক্তাদের।
মণ্ডপ গড়ছেন মেদিনীপুর ও মুর্শিদাবাদের শিল্পীরা। মণ্ডপের উচ্চতা ৬০ ফুটের অধিক। পুজোয় প্রতিদিনই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। এই পুজোকে কেন্দ্র করে শিশুদের জন্য একটি ছোট মেলা বসে। পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ উত্তমকুমার দাস ও সদস্য সুমন্ত মণ্ডল বলেন, প্রথম থেকেই আমরা থিমের পুজো করে আসছি। গত কয়েক বছরে ভিক্টোরিয়া, বাহুবলী ও ইন্দোনেশিয়ার বিষ্ণু মন্দিরের আদলে মণ্ডপ গড়ে দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেছে। বহু সংস্থা থেকে সেরার শিরোপা পেয়েছি আমরা। পুজোর কয়েকদিন দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় হয়।
পুজো কমিটির যুগ্ম সম্পাদক বান্টি সিং ও চিত্তরঞ্জন বিশ্বাস বলেন, আমাদের এবারের পুজোর বাজেট প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা। দুর্গাপুরের বিশিষ্ট চিকিৎসক সত্যজিৎ বোস পুজো কমিটির সভাপতি। আমাদের পুজোয় দু’টি থিম হয়। একটি থিমের মণ্ডপ। পাশাপাশি আলাদা আরও একটি মণ্ডপ তৈরি করা হয়। প্রায় প্রতিবছরই স্বাস্থ্য শিবির করা হয়। দুঃস্থদের বস্ত্র বিতরণ করা হয়। এছাড়াও আমরা সারাবছর সামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকি। করোনাকালে এলাকার মানুষের পাশে থেকেছি। খাদ্য সামগ্রী ও অক্সিজেন দিয়েছি। করোনা আক্রান্তকে ক্লাবে রেখে চিকিৎসাও করানো হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের ফুটবল টিম রয়েছে। প্রতিবছর বিরাট আকারের ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়।-নিজস্ব চিত্র