Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্গাপুর ব্যারাজ সংস্কার, যান নিয়ন্ত্রণে বিকল্প একাধিক রুট

দুর্গাপুর ব্যারাজ সংস্কার, যান নিয়ন্ত্রণে বিকল্প একাধিক রুট
  • ১৬ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: দুর্গাপুর ব্যারেজ সংস্কারের সময় ভারী পণ্যবাহী গাড়ি বাঁকুড়ার মেজিয়া ও পূর্ব বর্ধমানের সদরঘাটের কৃষক সেতু হয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে রাজ্য ও জাতীয় সড়ক ধরে আসা পণ্যবাহী ট্রাক, ট্রেলার, ডাম্পার, কন্টেনার সহ অন্য ভারী গাড়ি ওই দুই সেতু দিয়ে দামোদর নদ পার করানো হবে। একইভাবে বীরভূম ও দুই বর্ধমানের দিক থেকে আসা পণ্যবাহী গাড়িও ওই দুই সেতু হয়ে বাঁকুড়ায় ঢুকবে। বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সমস্তপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সেতু সংস্কারের সময়েও ব্যারেজের রাস্তা দিয়েই বাস চলাচল করবে।

Advertisement

আবার ছোট গাড়ি যাতায়াতের জন্য ব্যারেজের সেতুর পাশে দামোদর নদের উপর হিউমপাইপ দিয়ে অস্থায়ী রাস্তা তৈরি হচ্ছে। ২১ এপ্রিল থেকে দুর্গাপুর ব্যারেজ সংস্কার শুরু হবে। সেকারণে ২০ এপ্রিলের মধ্যে ওই অস্থায়ী রাস্তার কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
বাঁকুড়ার জেলাশাসক সিয়াদ এন বলেন, ব্যারেজের সেতুর উপর দু’টি লেন রয়েছে। দুই পর্যায়ে লেন সংস্কার হবে। ফলে সংস্কারের সময় সেতুর একদিকের লেন খোলা থাকবে। তখন ওই সেতু দিয়ে শুধুমাত্র বাস পর্যায়ক্রমে চলতে পারবে। দামোদরের উপর তৈরি অস্থায়ী রাস্তা দিয়ে ছোট চারচাকার গাড়ি যাতায়াত করতে পারবে। পণ্যবাহী ভারী গাড়ি মেজিয়া ও সদরঘাটের সেতু হয়ে যাতায়াত করবে। সেজন্য মোড়ে মোড়ে প্রয়োজনীয় পুলিসকর্মী মোতায়েন করা হবে।
বাঁকুড়া-দুর্গাপুর রাজ্য সড়ক ধরে বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক সহ কয়েকহাজার গাড়ি রোজ চলাচল করে। দুর্গাপুর তথা পশ্চিম ও পূর্ব বর্ধমানের বিস্তীর্ণ এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় ব্যারেজের রাস্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া তথা জঙ্গলমহলের বাসিন্দারা ওই রাস্তা ধরেই কলকাতায় যাতায়াত করেন। ফলে রাস্তা বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। আবার সংস্কার না হলে ব্যারেজের রাস্তা দিয়ে যান চলাচল মুশকিল হয়ে পড়বে। রাস্তাটির প্রায় পুরোটাই খানাখন্দে ভরে গিয়েছে। ব্যারেজ ও দু’দিকের অ্যাপ্রোচ রোড মিলিয়ে প্রায় এক কিমি রাস্তার আমূল সংস্কার প্রয়োজন।
পাঁচের দশকে তৈরির পর থেকে দুর্গাপুর ব্যারেজের রাস্তার আমূল সংস্কার হয়নি। একাধিক কংক্রিটের স্ল্যাব সেতুর পিলারের উপর বসানো হয়েছিল। চাপ ও তাপের ফলে যাতে সেতুর স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট না হয়, সেজন্য দু’টি স্ল্যাবের মাঝে এক্সপ্যানশন জয়েন্ট রাখা হয়েছে। দুর্গাপুর ব্যারেজে ৩৪টি এক্সপ্যানশন জয়েন্ট রয়েছে। এবারই প্রথম সেগুলি মেরামত করা হবে। তার আগে ব্যারেজের রাস্তার উপর গত ৭০বছর ধরে পড়া একের পর এক পিচের আস্তরণ তুলে ফেলে সেতুর ওজন কমানো হবে।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, সেচদপ্তরের দামোদর হেডওয়ার্কস্‌ ঩বিভাগের হাতে ব্যারেজের দায়িত্ব রয়েছে। ওই দপ্তরের উদ্যোগে সংস্কার করতে তিনমাস সময় লাগবে। মূল সংস্কার কাজের জন্য দেড় কোটি টাকা খরচ হবে। বিকল্প রাস্তা সহ আনুষঙ্গিক কাজের জন্য আরও ৫০লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ