নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে দুর্গোৎসব মিটেছে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে এবং নির্বিঘ্নে। কলকাতা, শহরতলি সহ জেলার সর্বত্র ধুমধাম করে মানুষ উৎসবে মেতেছে। রাত জেগে ঠাকুর দেখা, খাওয়া-দাওয়া, হইহুল্লোড়, আড্ডা, গান, গল্প—বাদ যায়নি কিছুই। জনসাধারণের উৎসবমুখরতায় যাতে কোনও বিপত্তি না ঘটে, তার জন্য সবসময় সতর্ক ছিল প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধায়ের নির্দেশে ২৪ ঘণ্টাই তৎপর ছিল প্রশাসন। পুলিশকর্মীরা নিরলসভাবে ডিউটি করে গিয়েছেন। এই আবহে রাজ্যের সমস্ত মানুষকে বিজয়ার প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সাংসদ, বিধায়ক, প্রশাসনের আধিকারিকদের কাছে পৌঁছে গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছাজ্ঞাপক চিঠি। মুখ্যমন্ত্রী সেখানে লিখেছেন, ‘অসাধারণ আনন্দ উদ্দীপনায়, সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আমরা পালন করলাম বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের পরিবেশে মিলেমিশে দুর্গাপুজোর আনন্দ ভাগ করে নিলেন। এই সানন্দ সহযোগিতার জন্য
সকলকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ।’ পাশাপাশি আগত আলোর উৎসব দীপাবলি ও কালীপুজোর আগাম শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন তিনি। এদিকে, শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় করতে এসেছিলেন একাধিক বিশিষ্টজন থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতা-নেত্রী ও কর্মীরা। শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর মমতা জনপ্রতিনিধিদের এলাকার দিকে নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন নেত্রী। যেমন, আরামবাগের সাংসদ মিতালি বাগ মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে এসেছিলেন। তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, আরামবাগ, খানাকুল ইত্যাদি অঞ্চলের দিকে বাড়তি নজর দিকে। আবার হাওড়া, উলুবেড়িয়া, মেদিনীপুর অঞ্চলের বিধায়কদেরও মুখ্যমন্ত্রী কয়েকদিন এলাকায় থেকে দুর্যোগ পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা জনপ্রতিনিধি ও দলের পদাধিকারীদের কাছ থেকে পুজোকালীন পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত খবর নিয়েছেন। এছাড়াও, কালীঘাটে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও বিভিন্ন জেলা থেকে তৃণমূল কর্মীরা এসেছিলেন। তাঁদের সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। জেলায় জেলায় বিজয়া সম্মিলনির আয়োজন যাতে সবাইকে নিয়ে সুন্দরভাবে হয়, তার পরামর্শ দিয়েছেন অভিষেক।
আগামী রবিবার দুর্গাপুজোর কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হবে রেড রোডে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যাবতীয় প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। ইতিমধ্যে রেড রোডে প্যান্ডেল তৈরির কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। আলো, জায়ান্ট স্ক্রিন বসানোর কাজ চলছে। শতাধিক পুজো কমিটি অংশগ্রহণ করবে কার্নিভালে। শনিবার জেলায় জেলায় কানির্ভাল অনুষ্ঠিত হবে। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে কার্নিভাল যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সেদিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রবিবার শিয়ালদহ ডিভিশনের সমস্ত সেকশনে অতিরিক্ত লোকাল ট্রেন পরিষেবা মিলবে বলে জানা গিয়েছে। কার্নিভালের জন্য সপ্তাহের কাজের দিনের মতোই ঘনঘন ট্রেন চলাচল করবে।