Bartaman Logo
২৯ জুলাই, ২০২৬
Advertisement
বর্তমান / রাজ্য

ভট্টাচার্য বাড়ির দুর্গাপুজোতে মোষ ছাড়াই মায়ের পুজো হয়

আলিপুরদুয়ারের ভট্টাচার্য বাড়ির দুর্গাপুজো তিনশো বছরের পুরনো। জেলা সদরের জামতলায় এই বাড়ির পুজোয় দেবীর সঙ্গে অসুর থাকলেও মোষ থাকে না।

ভট্টাচার্য বাড়ির দুর্গাপুজোতে মোষ ছাড়াই মায়ের পুজো হয়
  • ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ারের ভট্টাচার্য বাড়ির দুর্গাপুজো তিনশো বছরের পুরনো। জেলা সদরের জামতলায় এই বাড়ির পুজোয় দেবীর সঙ্গে অসুর থাকলেও মোষ থাকে না। বিশুদ্ধ নান্দীকিশোর পুরাণে দেবী উমার সঙ্গে মোষ না রাখার বিধান রয়েছে। সেই কারণেই ভট্টাচার্য বাড়ির পুজোয় মোষ ছাড়াই মায়ের পুজো হয়। পুজোও হয় বিশুদ্ধ নান্দীকিশোর পুরাণ মতেই।

Advertisement

সাধারণত দুর্গা মায়ের ডান দিকে গণেশ ও বাঁ দিকে কার্তিক থাকে। কিন্তু ভট্টাচার্য বাড়ির পুজোতে মায়ের বাঁ দিকে গণেশ ও ডান দিকে কার্তিক থাকে।
তিনশো বছর আগে অবিভক্ত বাংলাদেশের কোটালিপাড়া পরগণার গোপালগঞ্জের পশ্চিমপার গ্রামে ভট্টাচার্যদের নবম পুরুষ গোপাল ভট্টাচার্য প্রথম এই পারিবারিক পুজোর সূচনা করেছিলেন। দেশভাগের সময় ভট্টাচার্যদের উত্তরসূরিরা এপার চলে আসেন। এখানে বিশুদ্ধ নান্দীপুরাণ মতে দেবী উমা পূজিতা হন। শাস্ত্রীয় অনুশাসনের সেই কঠোর ধারা আজও বহন করে চলেছে ভট্টাচার্যদের উত্তরসূরিরা। ভট্টাচার্যদের বাড়িতে দেবীর ভোগেও বৈচিত্র্য আছে। দেবীর ভোগের তালিকায় থাকে কাতল, বোয়াল ও ইলিশ মাছ। থাকে আড় মাছের মাথাও। দেবীকে রসুন, পিঁয়াজ ছাড়া মাংসের ভোগ দেওয়া হয়। বাড়ির সদস্য ভাস্কর ভট্টাচার্য বলেন, কোনওভাবেই শাস্ত্রীয় নিয়ম ও অনুশাসন ভাঙার জো নেই আমাদের।
ভট্টাচার্য বাড়ির পুজোয় সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী তিনদিনেই পাঁঠা বলি হয়। তবে সপ্তমীতে প্রথম বলি দেওয়া হয় মানত করা পাঁঠা। তারপর অষ্টমী ও নবমীতে এলাকার ভক্তদের মানত করা পাঁঠা বলি দেওয়া হয় এই বাড়িতে। বলি প্রথাতেও অনন্য বৈচিত্র্য আছে এই পুজোয়। পাঁঠা ছাড়াও মায়ের পায়ে বলি দেওয়া হয় চাল কুমড়ো ও শসা দিয়ে তৈরি প্রতীকী শত্রুকে। আগে মোষ বলি দেওয়ার রেওয়াজ ছিল। এখন মোষ বলি হয় না। দশমীতে ভট্টাচার্য বাড়ির সদস্যদের লেখা দেওয়াল পত্রিকা বের হয়। দশমীতে সত্যনারায়ণ পুজো দেওয়া হয়।
ভট্টাচার্যদের দশম পুরুষের সদস্য অর্কপ্রভ ভট্টাচার্য বলেন, পরিবারের অন্য সদস্য ও আত্মীয় স্বজনরা যে যেখানেই থাকুন না কেন পুজোর সময় তাঁরা সবাই বাড়িতে আসেন। পুজোর ভূরিভোজে বাড়িতে পুনর্মিলন উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। দশমীতে পরিবারের সদস্যরাই শোভাযাত্রা করে কালজানি নদীতে মায়ের বিসর্জন দেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ