নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সেনাবাহিনীর এলাকা। ড্রোনের জন্য ‘রেড জোন’ মানে উড়ান নিষিদ্ধ এলাকা। কলকাতার সেই স্পর্শকাতর এলাকাতেই রাতের আকাশে রহস্যময় ড্রোন উড়তে দেখা গেল। একটা নয়, সবমিলিয়ে মোট ৭টি। সেনাবাহিনী, পুলিস কেউ-ই গোটা বিষয়টি জানে না। কোথা থেকে এল এই সন্দেহজনক ড্রোন? কে ওড়াল? কোথায় বা উধাও হয়ে গেল সেই রহস্যময় ড্রোনগুলি? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— কী উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনীর ডেরার উপরে উড়ল ড্রোন। গুরুত্ব দিয়ে এখন তার তদন্তেই নেমেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও লালবাজার।
সোমবার মাঝরাত। আচমকাই দেখা যায় বন্দর এলাকার আকাশে ঘুরছে রহস্যজনক আলো। লাল আর নীল, বারবার দপদপ করছে প্রাথমিকভাবে বিষয়টি বুঝতে পারেননি কেউ। ধীরে ধীরে সেই আলো হুগলি নদীর পাড় বরাবর ফোর্ট উইলিয়াম চত্বরের বাইরে ঘোরাফেরা করতে থাকে। স্থানীয় সূত্রের খবর, এই আলো খুব বেশিক্ষণের জন্য স্থায়ী হয়নি। মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই তা আবার আকাশ পথেই গায়েব হয়ে যায়। সেই সময়েই দেখা যায় শুধুমাত্র ফোর্ট উইলিয়ামের উপর নয়, একইসঙ্গে ‘দ্য ৪২’ বিল্ডিং, রবীন্দ্র সদন, ময়দান সহ আশপাশের এলাকায় উড়ছিল ড্রোন। সেই সময় ওই এলাকায় সবমিলিয়ে চারটি ড্রোন ছিল। লালবাজার সূত্রে খবর, বিষয়টি জানা মাত্রই স্থানীয় থানাগুলিতে অ্যালার্ট পাঠানো হয়। রাতেই হেস্টিংস, ময়দান, শেক্সপিয়ার সরণি ও দক্ষিণ বন্দর থানা এলাকার তরফে নজরদারিতে বের হয় পুলিস। কিন্তু, স্থানীয়দের দাবি, পুলিস আসার আগেই সেই ড্রোন শহরের মাথা ছেড়ে চলে যায়। এরপরেই গোটা বিষয়টি সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কম্যান্ডকে জরুরি ভিত্তিতে জানানো হয় লালবাজারের তরফে। সেনা জানিয়েছে, শহরের উপর দিয়ে রহস্যজনক ড্রোন ওড়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।
কাশ্মীরে পহেলগাঁও হামলার ঠিক ১৪ দিনের মাথায় ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করে ভারতীয় সেনা। যুদ্ধপরিস্থিতিতে একের পর এক ড্রোন হামলা চালায় পাকিস্তান। যদিও শক্তপোক্ত এয়ার ডিফেন্সের কারণে একটাও ভারতের ভূখণ্ড স্পর্শ করতে পারেনি। অ্যান্টি মিসাইল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে সমস্ত ড্রোন হানা বানচাল করে দেয় সেনা। যুদ্ধ পরিস্থিতির শেষে ১৫ মে মুর্শিদাবাদে একটি রহস্যজনক ড্রোন উদ্ধার করে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফ। সূত্রের খবর, আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি মাঠের মধ্যে থেকে ওই ড্রোনটি উদ্ধার করে বিএসএফ। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ওই ড্রোনটি একবার ফুল চার্জে প্রায় ১৫-২০ মিনিট উড়তে সক্ষম। তাতে লাগানো ছিল একটি ৪’কে ক্যামেরা। যা ঝকঝকে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করতে সক্ষম। তদন্তকারীদের অনুমান, বাংলাদেশের দিক থেকেই উড়ে এসেছে এই উড়ন্ত-যান। সেটি একটি সার্ভিলেন্স বা নজরদারি চালানোর ড্রোন।
প্রসঙ্গত, সোমবার রাতেও সাতটি ড্রোন সার্ভিলেন্সের কাজেই উড়েছে বলে মনে করছে পুলিসের একাংশ। সূত্রের দাবি, এই ড্রোনগুলি, মহেশতলা-বেহালা এলাকা থেকে উড়তে শুরু করে। তারপর নদীপথ বরাবর ফোর্ট উইলিয়ামের দিকে যায়। পরে মধ্য কলকাতার উপর দিয়ে উত্তরমুখে চলে যায়। লালবাজার জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া কোনও ড্রোন শহরে ওড়ানো যায় না। শুধু তাই নয়, সেনার এলাকায় সম্পূর্ণভাবে ‘নো ফ্লাই জোন’। সেই এলাকায় কোনও ড্রোন ঢুকলেই সেনার নিজস্ব ড্রোন ডিটেকশন সিস্টেমে ধরা পড়ার কথা। কিন্তু, এক্ষেত্রে তা হয়নি। এই ড্রোনগুলি স্বয়ংক্রিয় বলেই জানিয়েছে লালবাজার। সেগুলি কে, কোথা থেকে চালাচ্ছিল তা এখনও স্পষ্ট নয় বলেই জানিয়েছে কলকাতা পুলিস। প্রসঙ্গত, সেনার দাবি, এগুলি হামলাকারী কোনও ড্রোন নয়, তাই সেগুলি প্রতিহত করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।