Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মিড ডে মিলে পিছিয়ে ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলি, বাংলা নিয়েই অভিযোগ কেন্দ্রের

তথাকথিত ডাবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যগুলিতে মিড ডে মিলের পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় অনেক বেশি খারাপ। তাও পিএম পোষণ (মিড ডে মিল)-এর প্রজেক্ট অ্যাপ্রুভাল বোর্ডের (প্যাব) রিপোর্টে রাজ্যকে কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে।

মিড ডে মিলে পিছিয়ে ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলি, বাংলা নিয়েই অভিযোগ কেন্দ্রের
  • ৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তথাকথিত ডাবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যগুলিতে মিড ডে মিলের পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় অনেক বেশি খারাপ। তাও পিএম পোষণ (মিড ডে মিল)-এর প্রজেক্ট অ্যাপ্রুভাল বোর্ডের (প্যাব) রিপোর্টে রাজ্যকে কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গকে রাজনৈতিকভবে পঙ্গু করার জন্যই এই পরিকল্পনা। এই ভাষ্যেই বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে একযোগে বিঁধলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। ‘প্যাব’ রিপোর্ট নিয়ে রাজ্য বিজেপির নেতারা দাবি করেছেন, এখানে পড়ুয়াদের মিড ডে মিল পাওয়ার হার খুবই কম। তথ্য দিয়ে এই দাবি খারিজ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।

Advertisement

ম্যানেজমেন্ট ইনফর্মেশন সিস্টেম (এমআইএস) অনুযায়ী রাজ্যে এই মুহূর্তে মিড ডে মিলের কভারেজ ৬৯ শতাংশ। এই হার গুজরাত এবং উত্তরপ্রদেশের মতো বড় ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যে ৬৪ শতাংশ, রাজস্থানে ৫২ শতাংশ এবং প্রতিবেশী বিহারে ৪২ শতাংশ। মিড ডে মিলের এক কর্তা বলেন, ‘আমাদের রাজ্যে এমআইএস ব্যবস্থা অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় অনেক নির্ভুল। বাড়িয়ে দেখানো হয় না। বরং অনেক ক্ষেত্রেই রিপোর্টিংয়ের অভাবে মিড ডে মিল খেলেও সেই তথ্য আসে না কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারে। কভারেজ কম যে জেলাগুলিতে, সেখানে আসলে এই সমস্যা রয়েছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি আরও উন্নত করার চেষ্টাই চালাচ্ছি আমরা।’ 
শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করছেন, ‘প্যাব’ অনুমোদিত সংখ্যার ৮৫ শতাংশ পড়ুয়া গত বছর মিড ডে মিলের আওতায় ছিল। এ বছর তা বেড়ে হয়েছে ৯১ শতাংশ। এগুলি ‘প্যাব’-এরই তথ্য। রাজ্য সরকার কোনও তথ্য দেয়নি। তাই গেল গেল রব তোলার কোনও কারণ নেই। প্রসঙ্গত, শিক্ষাদপ্তরের আধিকারিকরাও বলছেন, এনরোলমেন্টের ৭৩ শতাংশ আগের বছর মিড ডে মিলের আওতায় ছিল। তা এ বছর সামান্য কমে হয়েছে ৬৯ শতাংশ। এর পিছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। পড়ুয়ারা মিড ডে মিল পাচ্ছে না বলেই এই হার কমেছে, তেমন নয়। পরিসংখ্যান এবং তথ্যগত খামতিই মূল কারণ বলে মনে করছেন তাঁরা। সেই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী মনে করিয়ে দিচ্ছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ীই এ রাজ্যে প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিক স্তরে কোনও স্কুলছুট নেই। তাছাড়া, রাজ্যের পড়ুয়ার ৮৮ শতাংশই সরাসরি সরকারি বা অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতে পড়াশোনা করে। অর্থাৎ তাঁর ইঙ্গিত, এ রাজ্যের মিড ডে মিল ব্যবস্থাপনা বিশাল। এই বিপুল চাপ অন্যান্য রাজ্যকে সামলাতে হয় না। সেই কারণেই নানা অজুহাতে রাজ্যের মিড ডে মিলের সাফল্যকে ছোট করে দেখাতে চাইছে কেন্দ্র।

সম্পর্কিত সংবাদ