Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দলীয় নির্দেশকে ডোন্টকেয়ার, কর্মাধ্যক্ষকে মার ভাইজানের

দলীয় নির্দেশকে ডোন্টকেয়ার, কর্মাধ্যক্ষকে মার ভাইজানের
  • ১১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: মন্ত্রী বনাম ভাইজানের ‘যুদ্ধে’ ফের সরগরম মন্তেশ্বর। দলের নির্দেশকে থোড়াই কেয়ার করে আরও বেপরোয়া ভাইজান। কয়েক দিন আগে মন্তেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ লালন শেখ মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীরর সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তাতে ভাইজান রুষ্ট হন। দলের একাংশের অভিযোগ, ফিল্মি কায়দায় ভাইজানের লোকজন কর্মাধ্যক্ষকে  শনিবার রাতে ইসনা গ্রামের নিজের দোকান থেকে তুলে নিয়ে আসে। বেধড়ক পিটিয়ে তাঁকে টোটোয় তোলা হয়। দু’পাশে ভাইজানের লোকজনরা বাইক চালিয়ে তাঁকে কুসুমগ্রামের দিকে নিয়ে আসতে থাকে। পুলিস তাঁকে উদ্ধার করে মন্তেশ্বর ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাঠায়। সেখান থেকে তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হসপাতালে রেফার করা হয়।

Advertisement

রবিবার হাসপাতালে দেখতে এসে দলের নেতা আহমেদ হোসেনের বিরুদ্ধে দলের বর্ষীয়ান নেতা সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি আহমেদ হোসেন সাহেবকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তিনি বলেন, ওই নেতা গুণ্ডা। তাঁকে জেলা সভাপতি কোলে বসিয়ে দুধভাত খাওয়াচ্ছেন। উস্কানি দিচ্ছে। আহমেদ হোসেনের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পুরো এলাকা তিনি ত্রস্ত করে রেখেছেন। 
যদিওআহমেদ হোসেন সাহেব এনিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, ওঁর কথার উত্তর দেব না। যা জানানোর নেতৃত্বকে জানিয়েছি। তৃণমূলের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধায় বলেন, এনিয়ে মন্তব্য করব না। দলকে সব জানাব। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে কুলুট গ্রামে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। দু’পক্ষর কয়েকজন কর্মী জখম হন। মন্তেশ্বরের দখল নিতে দুই গোষ্ঠী মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মন্ত্রী দলের একাংশকে ব্রাত্য রেখে কর্মসূচি নিচ্ছেন। প্রকাশ্যেই তিনি নেতৃত্বর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। নেতৃত্বর একাংশের দাবি, মুখে লাগাম টানার জন্য মন্ত্রীকেও একাধিকবার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তারপরও তিনি বাক্যবাণ ছুঁড়ে দিচ্ছেন। দলের এক নেতা বলেন, দুই গোষ্ঠীর টানাপোড়েনে কর্মীরা আতঙ্কে রয়েছেন। কে কোন নেতার কর্মসূচিতে যাচ্ছেন তা দু’পক্ষই নজর রাখছে। 
বারবার সংঘর্ষ হওয়ায় এলাকার বাসিন্দারাও আতঙ্কে রয়েছেন। নেতৃত্বর উচিত দু’পক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। ভাইজান বহু আগে থেকেই বেপরোয়া। তিনি বারবার বিতর্কে জড়িয়েছেন। কিন্তু, তারপরও নেতৃত্ব তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস দেখায়নি। যত দিন যাচ্ছে তিনি ততই আগ্রাসী হচ্ছেন বলে অভিযোগ। এক সময় তিনি মন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত ছিলেন। এখন দু’জন দুই মেরুর বাসিন্দা। দলের একাংশর দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের টিকিটের জন্যই দু’পক্ষের লড়াই শুরু হয়েছে। কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ। সেই কারণেই মন্তেশ্বর বারবার মন্ত্রী এবং ভাইজান গোষ্ঠীর ‘যুদ্ধ’ দেখছে। পুলিস জানিয়েছে, যে বা যারা অশান্তি পাকাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শনিবার রাতের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ