কেন আজকের দুনিয়ায় চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য প্রশাসকদের কমিউনিকেশন স্কিল ভালো হওয়া অত্যন্ত জরুরি। খোলামেলা আলোচনা করলেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের সুপার ও উপাধ্যক্ষ ডাঃ অঞ্জন অধিকারী।
কেন আজকের দুনিয়ায় চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য প্রশাসকদের কমিউনিকেশন স্কিল ভালো হওয়া অত্যন্ত জরুরি। খোলামেলা আলোচনা করলেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের সুপার ও উপাধ্যক্ষ ডাঃ অঞ্জন অধিকারী।
চিকিত্সকদের কি সাধারণ মানুযের সঙ্গে খোলামেলাভাবে কথা বলতে বাধে? প্রান্তিক বা কম সফল মানুষের প্রতি কি থাকে বৈরীভাব? এই প্রশ্ন অনেকেই করেন। আমার কথা হল, ডাক্তাররা ভিন গ্রহের জীব নন। শুধুই বিত্তশালী পরিবারের ছেলেমেয়েরা চিকিত্সক হয় না। সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে ছেলেমেয়েরা ডাক্তারি পড়তে আসে। এমন পরিবার থেকেও ছেলেমেয়েরা আসেন, যেখানে হয়তো দু’বেলা ভালোভাবে খাবার জোটে না! হ্যাঁ, হয়তো পড়াশোনার চাপে, কঠিন বিষয় আত্মস্থ করার মগ্নতায় কিছু চিকিত্সক মানুযের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রটিতে পিছিয়ে পড়েন। সে দক্ষতাও তৈরি করা সম্ভব সহমর্মিতা বাড়িয়ে তুলে। চিকিত্সকদের তাই দরকার হলে উজিয়ে গিয়ে সাহায্য করতে হবে— ঠিক যেমন কদিন আগেই বন্দে ভারতে অসুস্থ এক বৃদ্ধের প্রাণ বাঁচিয়ে সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে উঠে এসেছিল পুরুলিয়ার এক চিকিত্সক! নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের বলব, সহমর্মিতা বাড়াতে নিজের পরিবারের সদস্যের চিকিত্সা নিজে শুরু করো। বাবার ক্যাথিটার নিজে লাগাও, তাঁর ডায়াবেটিসের খেয়াল নিজে রাখো। বাবা-মা, পরিবারের বাকি সদস্যের অভ্যেসগুলো খেয়াল করো, একসময় দেখবে সুদূর গ্রাম থেকে আসা সদ্য পরিচয় হওয়া রোগীটির চাহিদা, তাঁর প্রশ্ন খুব ভালো করে বোঝা সম্ভব হচ্ছে। শেষে বলি, চিকিত্সকরাও মানুষ। তাঁদেরও আবেগ রয়েছে, ক্লান্তি রয়েছে। সমাজের মানুষের সহায়তা না থাকলে, তাঁরা উত্কৃষ্ট জ্ঞান, কলা কৌশল প্রয়োগের আত্মবিশ্বাস পাবেন কী করে! তাই তাঁদের সাহায্য করুন। ডাক্তাররা সমাজের শত্রু নয়, বন্ধু!
সাক্ষাত্কার: সুপ্রিয় নায়েক