Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্যে ও ভুয়ো ভোটার রুখতে কোমর বাঁধছে জেলা নির্বাচন কমিশন, হুগলিতে আসছে আরও কেন্দ্রীয় বাহিনী

একদিকে নির্বিঘ্নে ভোটগ্রহণ, অন্যদিকে ভুয়ো ভোটার রুখে দেওয়া– এই জোড়া লক্ষ্য নিয়ে চলছে হুগলি জেলা নির্বাচন কমিশন। সোমবার চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট, হুগলি গ্রামীণ পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর কর্তা ও জেলা প্রশাসনকে নিয়ে বৈঠক করেন জেলা নির্বাচন কমিশনার তথা জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি।

শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্যে ও ভুয়ো ভোটার রুখতে কোমর বাঁধছে জেলা নির্বাচন কমিশন, হুগলিতে আসছে আরও কেন্দ্রীয় বাহিনী
  • ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: একদিকে নির্বিঘ্নে ভোটগ্রহণ, অন্যদিকে ভুয়ো ভোটার রুখে দেওয়া– এই জোড়া লক্ষ্য নিয়ে চলছে হুগলি জেলা নির্বাচন কমিশন। সোমবার চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট, হুগলি গ্রামীণ পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর কর্তা ও জেলা প্রশাসনকে নিয়ে বৈঠক করেন জেলা নির্বাচন কমিশনার তথা জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি। তিনিই কমিশনের জোড়া লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন। এদিন খুরশিদ চন্দনগরের কমিশনার ও গ্রামীণ পুলিশ সুপারকে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বিঘ্নে ভোট করতে হুগলি জেলায় ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখা হবে। ইতিমধ্যেই জেলায় ৪৬ কোম্পানি বাহিনী চলে এসেছে। তাদের নিয়ে টহলদারি চালিয়ে কমিশনারেট ও গ্রামীণ পুলিশের তরফে নিয়মিত ভোটাদের আশ্বস্ত করার কাজ চলছে।

Advertisement

জেলা নির্বাচন কমিশনার খুরশিদ আলি কাদরি বলেন, আমাদের প্রস্তুতি খুবই ভালো হয়েছে। নির্বিঘ্নে ভোট করতে যাবতীয় পদক্ষেপ আমরা করেছি এবং সেই মেশিনারি সঠিকভাবে যাচাইও করা হয়েছে। ভোটদাতাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে দু’দফায় যাচাইপর্ব চলবে। বুথের বাইরে বিএলও’রা প্রথমে ভোটারদের পরিচয় নিশ্চিত করবেন। এরপর ভিতরে দ্বিতীয় দফায় পরিচয় যাচাই হবে। ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে জেলার নিজস্ব বাহিনী, ভোটকর্মী, সকলেই নিরাপত্তা রক্ষার কাজ করবেন।
পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে চন্দননগরের কমিশনার সুনীল যাদব ও গ্রামীণ পুলিশ সুপার সানি রাজ বলেন, জেলাজুড়ে ব্যাপকভাবে নাকা চেকিং করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সেই কাজে বেশ কিছু সাফল্য মিলেছে। আগ্নেয়াস্ত্র, নগদ টাকা, গয়না, সোনা, এসব যাতে কোনওভাবে ভোট প্রভাবিত করতে ব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বেআইনি মদের বিরুদ্ধেও কার্যকরী পদক্ষেপ করা হয়েছে। পুলিশকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচন বিধি কার্যকর হওয়ার পরে জেলায় ১৬ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকার বেআইনি মদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গত একমাসেই ৮ কোটি টাকার মদ উদ্ধার করা হয়েছে। বিপুল সংখ্যায় চোলাইয়ের ভাটি নষ্ট করা হয়েছে। গোটা জেলায় প্রায় ৫০টি নাকা চেকিং পয়েন্ট করা হয়েছে। জেলার এক পুলিশকর্তা বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে জেলার বিশেষভাবে চিহ্নিত ১৫৯৮টি এলাকায় রুট মার্চ করানো হয়েছে। নজরে রাখা হয়েছে জলপথও। সম্প্রতি চুঁচুড়া ফেরিঘাট থেকে প্রায় ১ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের দেওয়া যাবতীয় গাইডলাইন সুষ্ঠুভাবে প্রয়োগ করতে দফায় দফায় আলোচনা চলছে। কিন্তু যাবতীয় আলোচনার কেন্দ্রে রাখা হয়েছে মূলত দু’টি বিষয়, ভুয়ো ভোটার রুখে দেওয়া এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোট পরিচালনা করা। আর সেই কাজে দ্বিস্তরীয় ভোটার যাচাই থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিপুল প্রয়োগ, কোনও কিছুই কমিশন বাদ দিচ্ছে না। অপরাধ রুখে দেওয়ার পাশাপাশি, নাগরিকদের ভোটদান ১০০ শতাংশ নিশ্চিত করতেও নানারকম পদক্ষেপ 
করা হচ্ছে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ