সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: জেলার হাটগুলিতে অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদ দখলদার ব্যবসায়ীদের নোটিস দিয়েছিল। বেআইনি নির্মাণ সরিয়ে নিতে তিন মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও কাজ না হওয়ায় পরিষদ হাটের বেআইনি নির্মাণ গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ অবশেষে শুরু করল। মঙ্গলবার জেলার অন্যতম হাট মাদারিহাট দিয়েই সেই অভিযান শুরু হয়েছে জেলা পরিষদের।
আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের অধীনে ২১টি হাট আছে। হাটের ভিতরে অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে ডিসেম্বরে মাদারিহাটের ৮৪ জন ব্যবসায়ীকে পরিষদ নোটিস ধরিয়েছিল। সেসব নির্মাণ সরাতে ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হলেও অনেকেই কর্ণপাত করেননি। তাই এদিন পুলিস সঙ্গে নিয়ে আর্থমুভার এনে মাদারিহাটের ৪০টি অবৈধ নির্মাণ ভেঙে দেয় পরিষদ।
এদিনের অভিযানে নেতৃত্ব দেন খোদ জেলা পরিষদের বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ দীপনারায়ণ সিনহা। উপস্থিত ছিল মাদারিহাট থানার পুলিস। অবশ্য অভিযান শুরুর আগে বেশকিছু ব্যবসায়ী নিজেরাই জবরদখল করে রাখা অংশ ভেঙে দেন। পরিষদের অধীনে থাকা হাটগুলির মধ্যে সবচেয়ে বড় শামুকতলা হাট। তারপরেই পলাশবাড়ি, জটেশ্বর ও বারোবিশা হাট। শামুকতলা হাট থেকে পরিষদের বছরে ২৭-৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়। অন্যান্য হাট থেকেও বছরে ১২-১৩ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়ে থাকে। অভিযোগ, বহু হাটের ভিতরে থাকা রাস্তার একাংশ দখল করে বেআইনি নির্মাণ গড়ে তুলেছেন এক শ্রেণির ব্যবসায়ী। রাস্তা আটকে দোকান, প্ল্যাস্টিকের ছাউনি, দোকানের বারান্দা তৈরি হওয়ায় হাটে আসা লোকজনের চলাফেরা করতে সমস্যা হচ্ছে। এনিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ক্রেতাদের অনেকসময় ঝামেলা এমনকী হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।
জেলার হাটগুলি থেকে এমন ভূরিভূরি অভিযোগ আসার পরেই পরিষদ বেআইনি নির্মাণ ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয়। দীপনারায়ণবাবু বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উচ্ছেদের বিরুদ্ধে। তাই উচ্ছেদ নয়। আমাদের সাফ কথা হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের সমস্যা তৈরি করে হাটের ভিতরের রাস্তা দখল করে ব্যবসা করা চলবে না। তাই সমীক্ষা করে হাটগুলির বেআইনি নির্মাণ সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য নোটিস দিয়ে ব্যবসায়ীদের পর্যাপ্ত সময়ও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও কাজ না হওয়ায় পুলিস ও প্রশাসন দিয়ে এবার সেই বেআইনি নির্মাণ ভেঙে দেওয়ার কাজ শুরু হল। পর্যায়ক্রমে বাকি হাটগুলিতেও এই অভিযান হবে। নিজস্ব চিত্র।