নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: শিশুদের কথা মাথায় রেখে এবার জেলা প্রশাসন মায়েদের জন্য বিশেষ প্রতীক্ষালয় গড়ে তোলার কাজ শুরু করল। সরকারি দপ্তরে কাজের ফাঁকেও যাতে সন্তানের খাওয়া-দাওয়ার প্রতি মায়েরা নজর দিতে পারেন, সেই লক্ষ্যে অগ্রণী ভূমিকা নেওয়া হয়েছে। জেলাজুড়ে ‘মায়েদের প্রতীক্ষায়’ গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলায় পৃথক দু’টি প্রতীক্ষালয় গড়ে তোলার কাজ শেষ হয়েছে। আগামীতে জেলার ১৯টি ব্লক সহ জেলা প্রশাসনের মূল ভবনেও এই প্রতীক্ষালয় গড়ে তোলা হবে। সেক্ষেত্রে ইতিমধ্যে স্থান চিহ্নিতকরণের কাজও শুরু হয়েছে। অতি দ্রুত সেই কাজ সম্পন্ন করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। এবিষয়ে জেলা গ্রামোন্নয়ন কেন্দ্রের প্রজেক্ট ডিরেক্টর আজমল হোসেন বলেন, অনেক সময় সরকারি দপ্তরে জরুরি কাজে বৈঠকে যোগ দিতে এসে মায়েরা সন্তানদের খাওয়া-দাওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েন। বিষয়টি নজরে আসার পরই তার সমাধান সূত্র খুঁজে বের করা হয়। প্রাথমিকভাবে জেলাজুড়ে মোট ২১টি মায়েদের প্রতীক্ষালয় গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে দু’টি প্রতীক্ষালয় তৈরি করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনিক ভবন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও ব্লকঅফিসে নিত্যদিনই বহু মানুষের আনাগোনা হয়। তাঁদের মধ্যে অনেকেই মহিলা। অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা সন্তানদের কোলে করেই নানা দপ্তরে পৌঁছে যান। বিশেষ করে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা প্রায়দিনই বিভিন্ন দপ্তরে নানা কাজে আসেন। এছাড়াও একাধিক বৈঠকেও তাঁদের যোগ দিতে হয়। সে সময় সন্তানদের পেট ভরাতে অনেকেই অসহায়ের মতো নিরাপদ আস্তানা খোঁজেন। বিষয়টি দপ্তরের আধিকারিকের নজর এড়ায়নি। তড়িঘড়ি সেই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপরই মায়েদের প্রতীক্ষালয় গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়। জেলা গ্রামোন্নয়ন কেন্দ্রে প্রথম প্রতীক্ষালয় গড়ে তোলা হয়। পরবর্তীতে জেলার লাভপুর ব্লক অফিসেও একটি প্রতীক্ষালয় গড়ে তোলা হয়। একইভাবে জেলার প্রশাসনিক ভবন সহ অন্যান্য ব্লক অফিসেও এই প্রতীক্ষালয় গড়ে তোলা হবে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করণের জন্য বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে নতুন করে ভবন তৈরি করাহ চ্ছেনা। নির্দিষ্ট পরিকাঠামোর মধ্যেই একটি ঘরচিহ্নিত করে প্রতীক্ষালয় গড়ে তোলা হচ্ছে।
দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতীক্ষালয় গুলিতে এক সঙ্গে ১০ জনের বসার বন্দোবস্ত রয়েছে। সেক্ষেত্রে বসার জন্য চেয়ার সহ পর্যাপ্ত আলো, ফ্যানও পরিস্রুত পানীয় জলের সুবন্দোবস্ত থাকছে। সেইসঙ্গে প্রতিটি প্রতীক্ষালয়ে টাওয়েলও রাখা থাকছে। সব মিলিয়ে হাজার দশেক টাকা খরচেই মায়েদের প্রতীক্ষালয় গড়ে উঠছে।