Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উত্তমকে নিয়ে দিনভর তৎপর জেলা প্রশাসন, বিক্ষোভ কর্মসূচি তৃণমূলের, নিরুত্তাপ বিজেপি

আর হয়তো ভিটেমাটি ছাড়া হতে হবে না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে পাশে দাঁড়ানোর কথা বলায় এবার আশার আলো দেখছেন দিনহাটার সাদিয়ালেরকুঠির বাসিন্দা উত্তমকুমার ব্রজবাসী।

উত্তমকে নিয়ে দিনভর তৎপর জেলা প্রশাসন, বিক্ষোভ কর্মসূচি তৃণমূলের, নিরুত্তাপ বিজেপি
  • ৯ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার ও সংবাদদাতা, দেওয়ানহাট: আর হয়তো ভিটেমাটি ছাড়া হতে হবে না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে পাশে দাঁড়ানোর কথা বলায় এবার আশার আলো দেখছেন দিনহাটার সাদিয়ালেরকুঠির বাসিন্দা উত্তমকুমার ব্রজবাসী। বিজেপি শাসিত অসম সরকারের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল আইনে উত্তমকুমারকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে নোটিস দেওয়া নিয়ে রাজ্যজুড়ে হইচই। কয়েক পুরুষ ধরে বাস করা উত্তমকুমারের পাশে দাঁড়িয়ে সরব হয়েছেন গ্রামবাসীরাও।  

Advertisement

মঙ্গলবার প্রশাসনের তরফে বাড়িতে গাড়ি পাঠিয়ে প্রথমে দিনহাটা-২ বিডিও অফিসে নিয়ে যাওয়া হয় উত্তমকুমারকে। তিনি আগে তপসিলি জাতির শংসাপত্র পেতে আবেদন করেছিলেন। সেই সংক্রান্ত কাগজপত্র এদিন উত্তমকুমারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আজ, বুধবার তিনি এসডিও অফিসে সেসব জমা দেবেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে উত্তমকুমারকে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
দিনভর ব্যস্ততার পর এদিন উত্তমকুমার বলেন, আমার সমস্যার কথা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছেছে। তিনি পাশে দাঁড়িয়েছেন শুনে এখন অনেকটাই  স্বস্তিতে আছি। তিনি নিশ্চয় এই সমস্যা থেকে আমাকে মুক্ত করবেন। এদিকে, কোচবিহারে এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক তর্জা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে কোচবিহার শহরে এনআরসি বিরোধী মিছিল করে তৃণমূল। নেতৃত্ব দেন দলের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক। বিকালে উত্তমকুমারের বাড়ি এলাকায় ফের বিক্ষোভ মিছিল করেন শাসক দলের নেতাকর্মীরা। সেখানে ছিলেন এলাকার বিধায়ক ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ সহ অন্যরা।
বিজেপি সরকার যেভাবে ‘কাগজ দেখাও’ নীতিকে সামনে রেখে           এগিয়ে চলেছে, তাতে আরও অনেককে চিঠি পাঠিয়ে হেনস্তা করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জেলা তৃণমূল সভাপতি। তাঁর কথায়,  মুখ্যমন্ত্রী শুরুতেই বলেছিলেন বাংলায় এনআরসি হবে না। এখন কেন্দ্র অসম সরকারকে দিয়ে নোটিস করাচ্ছে। এবার একজনকে চিঠি দিয়েছে, এই সংখ্যা এক লক্ষ হতে পারে।
শাসক দলের অভিযোগ, বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলার মানুষকে বাংলাদেশী তকমা দিয়ে পুলিস ধরে নিয়ে যাচ্ছে। আবার বাংলার বাসিন্দাদের অনুপ্রবেশকারী তকমা দিয়ে বাড়িতে নোটিস পাঠাচ্ছে। বাংলা বিরোধী বিজেপি আসলে বাংলার মানুষকে হেনস্তা করতে খুব বড় ষড়যন্ত্র করছে। 
কোচবিহারের তৃণমূল সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া বলেন, আমরা অবাক হচ্ছি, কয়েক পুরুষ ধরে সাদিয়ালেরকুঠিতে বসবাস করছেন উত্তম ব্রজবাসী। তিনি কোনও দিন অসমে যাননি। অথচ অনুপ্রবেশকারী তকমা দিয়ে তাঁর নামে নোটিস পাঠাচ্ছে বিজেপি সরকার। এটা বিজেপির বাংলা ও বাঙালি বিরোধী চক্রান্ত।
উত্তমের ঘটনা নিয়ে একটা শব্দ খরচ না করে বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মনের মন্তব্য, কেউ বাংলা ছাড়া হবে না। আসলে সামনেই ভোট। মানুষকে বিভ্রান্ত করে তৃণমূল ভোট বৈতরণী পার হতে চাইছে। 
রাজবংশী ভাষা অ্যাকাডেমির চেয়ারম্যান হরিহর দাসও অশনিসঙ্কেত দেখছেন। তাঁর বক্তব্য, এটা রাজবংশী, ভূমিপুত্র, সংখ্যালঘু সহ সমস্ত রাজ্যবাসীর কাছেই বিপদ। নিরীহ মানুষকে বিপাকে ফেলা হলে রুখে দাঁড়াব।
অল কামতাপুর স্টুডেন্ট ইউনিয়নের পক্ষ থেকেও এদিন প্রতিবাদ সাংবাদিক করা হয়। সংগঠনের সভাপতি কৌশিক বর্মন বলেন, উত্তমবাবু আমাদের কামতাপুরী রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষ। আমরা এখানকার আদি নিবাসী। নরেন্দ্র মোদি যতটা ভারতীয়, তার থেকে এখানকার কামতাপুরী মানুষেরা বেশি ভারতীয়। বিজেপির সরকার দলিত, রাজবংশী, কামতাপুরী বিরোধী।

সম্পর্কিত সংবাদ