সংবাদদাতা, বারুইপুর: ১৯৫৮ সালের জানুয়ারি মাসে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় বারুইপুরের ফুলতলা পিয়ালি টাউনে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন একটি শিশু উদ্যানের। বারুইপুর ব্লক অফিস ও পঞ্চায়েত সমিতির অফিসের সামনেই এই উদ্যান। উদ্যানটি বর্তমানে আগাছা-জঙ্গলে ঢেকেছে। আগাছায় চাপা পড়ে গিয়েছে উদ্বোধনের ফলক। অবহেলায় পড়ে আছে ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের আবক্ষ মূর্তি। চারদিকের রেলিংয়ের অনেক অংশও ভেঙে গিয়েছে।
খোদ প্রশাসনিক দপ্তরের সামনেই উদ্যানের এই বেহাল অবস্থা নিয়ে এলাকার মানুষজন ক্ষুব্ধ। প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, বারংবার প্রশাসনের সব স্তরে এই উদ্যানের অবস্থার কথা বলা হলেও কোনও কাজ হয়নি। অথচ এই উদ্যানের পাশ দিয়েই নিয়মিত যাতায়াত করেন প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিরা। বারুইপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কানন দাস অবশ্য বলেন, আমাদের নজরে আছে এই বিষয়টি। দ্রুত এই উদ্যান সংস্কার করে সাজিয়ে তোলা হবে।
এই উদ্যানে ২০০৯ সালে ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় স্মৃতিরক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে তাঁর আবক্ষ মূর্তির উদ্বোধন হয়েছিল। উদ্যানের ভিতরে গিয়ে দেখা গেল স্লিপার, নাগরদোলা সব ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে। আগাছার জঙ্গল হয়ে গিয়েছে, পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে।
ওই কমিটির সম্পাদক দীপক বিশ্বাস বলেন, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় নিজে এই উদ্যানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। এই জায়গার নামও তাঁরই দেওয়া, পিয়ালি টাউন। কিন্তু ব্লক প্রশাসন থেকে এই উদ্যানের রক্ষণাবেক্ষণে কোনও নজর দেওয়া হয়নি। বিধানচন্দ্র রায়ের মূর্তি আমরা পরিষ্কার ও রং করি। কিন্তু সরকারি জায়গায় ইচ্ছা থাকলেও সব কিছু করা যায় না। সব ভেঙেচুরে শেষ হয়ে যাচ্ছে। মানুষের বসার জায়গা সব নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এত জঙ্গল হয়ে গিয়েছে যে এখান আর ভিতরে ঢোকা যায় না।
নজরদারির অভাবে রেলিং সহ অন্য সামগ্রী চুরি হয়ে যাচ্ছে। বারুইপুরের বিডিওকে এই সমস্যা জানানো হলেও কোনও কাজ হয়নি। এলাকার বাসিন্দারাও বলেন, বিডিও অফিসের সামনে উদ্যানের বেহাল অবস্থার দিকে কোনও নজর দেয়নি প্রশাসনের লোকজন। বিধানচন্দ্র রায়ের স্মৃতি মুছে যাচ্ছে। নিজস্ব চিত্র