নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সহ ফুল বেঞ্চ বাংলায় পা রাখার কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই বিজেপি এবং কমিশন বিরোধী সুর উচ্চগ্রামে নিয়ে গেলেন বাংলার অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধরনা মঞ্চ থেকে সংঘাত একেবারে কমিশনের ভরকেন্দ্রে পৌঁছে দিয়ে তাঁর হুংকার, ‘একজনও বৈধ ভোটারের ভোটাধিকার যেন না যায়।’ লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির নামে যেভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষকে হয়রানির খাদে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, সেই প্রসঙ্গ টেনে মমতার হুঁশিয়ারি, ‘ভোটের আগে ভোট করাচ্ছে! চ্যালেঞ্জ করছি, এতকিছু করেও বাংলা জিততে পারবে না।’
রবিবার ধর্মতলার ধরনা মঞ্চে রবিবার ছিল মুখ্যমন্ত্রীর তৃতীয় দিন। ঘটনাচক্রে আন্তর্জাতিক নারী দিবসও। স্বাভাবিকভাবেই মঞ্চের ব্যানারে বড়ো হরফে নারী দিবসের জানান দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে মোদি জমানায় হেঁশেলের দুর্দশাও তুলে ধরেন নেত্রী। ‘যুদ্ধের অজুহাতে’ রান্নার গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। এক ধাক্কায় ৬০ টাকা। তার প্রতিবাদেই মমতা ধরনা মঞ্চে হাজির করেছেন মাটির উনুন। তাতে হাঁড়ি চাপিয়েছেন। আর দেখিয়েছেন, রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে ভাত ফুটছে না, ভাতের থালা ফাঁকা। সিলিন্ডারের প্রতীকী তুলে ধরে পোস্টার, প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে দেখিয়েছেন, মূল্যবৃদ্ধির আগুনে কীভাবে পুড়ছে আম জনতা। কালো শাড়ি পরে, হাতা-খুন্তি নিয়ে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিলও করেন তৃণমূলের মহিলা শাখার সদস্যরা। তাঁরা যোগ দেন মমতার ধরনা মঞ্চে। প্রতিবাদের মঞ্চে। সেখানে বিজেপি ও কমিশনকে এক আসনে বসিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো তখন তোপ দাগছেন, এই আঁতাতের যাবতীয় ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করতে হবে। তাঁর আক্রমণ, ‘শুধুমাত্র বাংলার জন্য লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি! এটা বিজেপির পরিকল্পিত খেলা। নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে তারা এটা করছে। ওরা বড়ো হনু হয়ে গিয়েছে! এই চক্রান্ত মেনে নেব না। একজনও বৈধ ভোটার যেন বাদ না যায়। বিজেপির কথায় কমিশন কারও ভোটাধিকার কেড়ে নিতে পারে না।’ মানুষের কাছে তাঁর আবেদন, ‘যারা এই কাজ করছে, তাদের বিদায় চাই। তাই সাধারণ মানুষ তৈরি হোন, জোট বাঁধুন।’ এসআইআরের নামে বিজেপির পরবর্তী এজেন্ডাও ফাঁস করে দিয়েছেন মমতা। বলেছেন, ‘সিএএর নামে বদমাইশি করছে। এরপর আনবে এনআরসি। বিজেপি দেশ দখল করতে চাইছে।’
সংখ্যালঘু ও মহিলা ভোটারদের তালিকা থেকে কাটাই বিজেপির প্রধান উদ্দেশ্য—এই অভিযোগ বারবার করে এসেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই সূত্রেই মমতা এদিন বলেন, ‘আমি নাকি মুসলিমদের ঢুকিয়েছি! কিন্তু স্বাধীনতার সময় তো আমার জন্ম হয়নি। যাঁদের কথা বলছে, তাঁরা তো স্বাধীনতার সময় থেকে এদেশে রয়েছেন। বরং এখন যারা অনুপ্রবেশের বলছে, তারা দালালি করেছে ব্রিটিশদের। গান্ধীজিকে খুন করেছে। কেন্দ্রের শাসক দল হিসাবে এখন চাইছে, ওরাই শুধু থাকবে। বাকি কেউ না। এর বিরুদ্ধে আমাদের সকলকে একজোট হয়ে প্রতিবাদ জানাতে হবে।’ মমতা দাবি করেছেন, রাজ্যপাল বদল নিয়ে তদন্ত হওয়া দরকার। সিবিআই না পারলে রাজ্য পুলিশের সিআইডি তা করে দেবে।