Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬

দুর্যোগে বিপর্যস্ত হিমাচল প্রদেশ , মৃত বেড়ে ৬৯, নিখোঁজ অন্তত ৩৭ জন

র্ষার মরশুম শুরু হতেই একের পর এক বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত হিমাচল প্রদেশ। মেঘ ভাঙা বৃষ্টি, হড়পা বান, ভূমিধসে ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ৬৯ জন। নিখোঁজের সংখ্যা ৩৭।

দুর্যোগে বিপর্যস্ত হিমাচল প্রদেশ , মৃত বেড়ে ৬৯, নিখোঁজ অন্তত ৩৭ জন
  • ৫ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০

নয়াদিল্লি: বর্ষার মরশুম শুরু হতেই একের পর এক বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত হিমাচল প্রদেশ। মেঘ ভাঙা বৃষ্টি, হড়পা বান, ভূমিধসে ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ৬৯ জন। নিখোঁজের সংখ্যা ৩৭। এছাড়া, গুরুতর জখম হয়েছেন ১১০ জন। শুক্রবার এমনটাই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুকু। তিনি জানান, এই মরশুমের শুরু থেকে সবমিলিয়ে ১৪টি মেঘ ভাঙা বৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে। এরফলে রাস্তা, পানীয় জলের প্রকল্প ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবাতেও বিঘ্ন ঘটেছে। যাঁদের বাড়িঘর ভেঙে গিয়েছে, তাঁদের অন্যত্র বাড়ি ভাড়া নিতে ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, মান্ডি জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ত্রাণ সামগ্রী বিলি ও উদ্ধারকাজ চলছে। 

Advertisement

হিমাচলের বিপর্যয় নিয়ে সুকুর সঙ্গে কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অতি বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যকে সমস্তরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। দুর্যোগে মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মান্ডির সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাতেও যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। কিন্তু, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জয়রাম ঠাকুরের পরামর্শে আপাতত সেই সফর স্থগিত রাখছেন। 
 জানা গিয়েছে, এবছর ২০ জুন হিমাচলে বর্ষা প্রবেশ করেছে। তারপর থেকে দুর্যোগ যেন পিছু ছাড়ছে না। প্রশাসন সূত্রে খবর, শুধু মান্ডি জেলাতেই ১২ জনের বেশি প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া, কাঙ্গরাতে ১৩, চম্বাতে ছয় ও সিমলাতে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। মান্ডিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে থুনাগ ও বাগসায়েদ। এই দুই এলাকায় রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্তমানে বিরোধী দলনেতা বিজেপির জয়রাম ঠাকুরের বিধানসভা ক্ষেত্রের মধ্যেই পড়ে। এছাড়া, কারসোগ ও ধর্মপুরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে শতাধিক বাড়ি ভেঙে গিয়েছে। ধুয়েমুছে সাফ ১৪টি সেতু। রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের বিশেষ সচিব ডি সি রানা জানিয়েছেন, আপাতত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৪০০ কোটি টাকার মতো। সমস্ত তথ্য হাতে এলে টাকার অঙ্ক আরও বেড়ে যেতে পারে। 
উত্তরাখণ্ডেও ব্যাপক বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত। এরমধ্যেই ভিমতাল হ্রদে ডুবে ভারতীয় বায়ুসেনার দুই আধিকারিকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের নাম প্রিন্স যাদব ও সাহিল কুমার। প্রিন্স পাঞ্জাবের পাঠানকোটের বাসিন্দা। সাহিলের বাড়ি বিহারের মুজফ্ফরপুরে। আরও ছ’জনের সঙ্গে তাঁরা নৈনিতালে ছুটি কাটাতে এসেছিলেন। জানা গিয়েছে, প্রবল বৃষ্টির জেরে রাজ্যের শতাধিক রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে চারধাম যাত্রাতেও। যানচলাচল বন্ধ হওয়ায় উত্তরকাশীর গেথ এলাকায় বেশ কিছু গ্রামে খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে। জানা গিয়েছে, ভূমিধসের জেরে গত পাঁচদিন ধরে যমুনেত্রী হাইওয়ে বন্ধ। সিলাইতে নির্মাণকর্মীদের তাঁবুও ভেসে গিয়েছে। এর ফলে ন’জন নিখোঁজ। সোনপ্রয়াগ ও গৌরীকুণ্ডের মধ্যে ধস নামায় বন্ধ রয়েছে কেদারনাথ যাওয়ার রাস্তাও। বেড়েছে নদীর জলস্তরও। গঙ্গা, অলকানন্দা, মন্দাকিনী, পিন্দার, ভাগিরথী, গোরি, কালি সহ একাধিক নদীর জল বিপদসীমার কাছাকাছি চলে এসেছে। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির সঙ্গেও কথা বলেছেন অমিত শাহ। 

সম্পর্কিত সংবাদ